banglanewspaper

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক গুরুত্ব ছাড়াও জেরুজালেম বিশ্বের প্রধান তিনটি ধর্মের পবিত্র স্থান। ফলে শহরটির ধর্মীয় গুরুত্বও তাৎপর্যপূর্ণ।

এখানে মুসলমানদের পবিত্র আল আকসা মসজিদ অবস্থিত যা মুসলমানদের স্মৃতিবিজড়িত এবং সেখানে অনেক নবী এবং সাহাবাদের কবর রয়েছে। জেরুজালেমের বেথেলহামে যীশু খ্রিস্ট জন্ম গ্রহণ করেন যার জন্য এই জায়গাটি খ্রিস্টানদের নিকট অধিক পছন্দনীয়। তাছাড়া জেরুজালেমে ইহুদীদের পবিত্র ওয়েলিং ওয়াল অবস্থিত।

হারাম শরিফ

আল আকসা মসজিদ ও পাথরের গম্বুজের (ডোম অব দ্য রক) সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে হারাম আল শরিফ। মক্কা ও মদিনার পর এটি মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান। ইসলাম ধর্মের শুরুতে মহানবী (সা.) আল আকসা মসজিদকে কেবলা ধরে নামাজ আদায় করতে বলেছিলেন। পরে তা কেবলা মক্কামুখী করা হয়।

এখানে প্রথম ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর, পরে ৭০৫ সালে এখানে প্রথম বড় আকারে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। দু'দফা ভুমিকম্পে দুবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা পরে পুনঃনির্মাণ করা হয়। এখন যে মসজিদটি আছে তা নির্মিত হয় ১০৩৫ সালে।

মসজিদের পাশেই রয়েছে সোনালী গম্বুজবিশিষ্ট 'ডোম অব দি রক' বা 'কুব্বাত আল-শাখরা'। ইহুদিদের মন্দির ধ্বংস করে রোমানরা এখানে দেবতা জুপিটারের একটি মন্দির তৈরি করেছিল। পরে ৬৮১ সালে উমাইয়া খলিফা আবদ-আল মালিকের সময় নির্মাণ করা হয় এই 'ডোম অব দি রক'। ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা এ জায়গাটি দখল করে নিলে তারা 'ডোম অব দি রক'কে একটি গির্জা হিসেবে এবং আল-আকসাকে রাজপ্রাসাদ ও নাইট টেম্পলারদের দফতর হিসেবে ব্যবহার করে।

আটকোণা এই গম্বুজের ভেতরেই রয়েছে সেই পাথরের ভিত্তি - যেখান থেকে ইসলামের নবী মুহাম্মদ মিরাজে গিয়েছিলেন বোরাক চড়ে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, বোরাকের পায়ের ছাপ এখনও পাথরে দেখা যায়।

পবিত্র সমাধির গির্জা

দখলকৃত জেরুজালেমেই খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্টকে রোমানরা বিচার ও ক্রুশবিদ্ধ করে। যে পথ দিয়ে যিশুকে হাঁটিয়ে নেওয়া হয়েছিল সেই পথটি এখনও বিদ্যমান। এই পথেই যাওয়া যায় যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্থান ও সমাধিতে।

পবিত্র সমাধির গির্জা (দ্য চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার) ১ হাজার ৭০০ বছর আগে বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী হেলেনা নির্মাণ করেন। ৩২৬ ও ৩২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই স্থানটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।

তীর্থযাত্রী

জেরুজালেমের পুরনো শহরে প্রতিদিন তিন ধর্মের বিপুল সংখ্যক অনুসারী ভ্রমণ করেন। ইহুদিরা ডেভিড স্ট্রিটসহ আল বুরাক দেওয়াল থেকে আল খলিল গেট পর্যন্ত বা তারিক আল ওয়াদ থেকে আল আমুদ গেট (দামেস্ক গেট) পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। এদের সঙ্গে যোগ দেয় খ্রিস্টানরা । তারাও যিশু খ্রিস্টের শেষ দিনের পথ দিয়ে মুসলিম কোয়ার্টার হয়ে হারাম শরিফে পৌঁছায়। 

ট্যাগ: Banglanewspaper জেরুজালেম