banglanewspaper

বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সঙ্গে একটিমাত্র সাবমেরিন কেবলে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্যাবলটি প্রায় বিশ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। এর সঙ্গে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ১৬টি টেলিকম কোম্পানি সংযুক্ত রয়েছে।

তবে এ ক্যাবলটি কোনো কারণে কাটা পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামত করতে প্রায় ৭ থেকে ১০দিন সময় লেগে যায়। প্রায়ই সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার কারণে বাংলাদেশ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

গ্রাহকদের যেন ভোগান্তিতে না পড়তে হয় তাই বিকল্প একটি সাবমেরিন ক্যাবলে ব্যাপক পরিসরে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটিডে (বিএসসিসিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি এ অঞ্চলে ‘এসইএ-এমইএ-ডাব্লিউ-৫’ কনসোটিয়াম কাজ শুরু হয়েছে। এতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রকল্প এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর। এর গ্রাউন্ড লোকেশন পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইডথ চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সবগুলো আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটর (আইজিডাব্লিউ) অপারেশনাল চালু হলে ব্যান্ডউইডথ চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া, দেশে থ্রিজি মোবাইল সার্ভিস চালু হাওয়ায় ব্যান্ডউইডথ চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে প্রতিদিন ৩২ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর মাহবুবুল আলম সর্দার  বলেন, বর্তমানে একটি সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত বাংলাদেশ। এটি কোনো কারণে কাটা পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামত করতে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যায়। এতে তথ্য প্রযুক্তি কাযর্ক্রমে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

তাছাড়া, একটি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে দেশের বর্তমান ব্যান্ডউইডথ চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেশে থ্রিজি মোবাইল সার্ভিস চালু হাওয়ায় ব্যান্ডউইডথ চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে ভারতবর্ষ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পশ্চিম ইউরোপে ‍যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

তিনি আরো জানান, ‘রিজিওনাল সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন প্রজেক্ট বাংলাদেশ’ ইন্সস্টলেশন অ্যান্ড ইস্টাবলিশমেন্ট অব সেকেন্ড সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম এসএমডাব্লিউ-৫ প্রকল্পের আওতায় দেশের ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণ করা হবে।

এতে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে আসবে ১৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৩৫২ কোটি টাকা এবং বিএসসিসিএল এর নিজস্ব অর্থ ১৪২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বিএসসিসিএল প্রকল্পটি জুন ২০১৬ সাল নাগাদ বাস্তবায়ন করবে।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় সাবমেরিন প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের আরো অতিরিক্ত ল্যান্ডিং স্টেশন সংযুক্তির মাধ্যমে ডাটার পরিধি বৃদ্ধি করা হবে। দেশের ব্যান্ডউইডথ চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে এর সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে। আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কমিউনিকেশন্স ব্যবস্থা বহুমুখিকরণ করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি সেবা যেমন- কল সেন্টার, সফটওয়্যার এক্সপার্ট, ডাটা-এন্ট্রি, ফ্রি-ল্যান্সিং ইত্যাদি সেবা বৃদ্ধি করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক  হাজার ৩০০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইডথসহ যুক্ত হবে বাংলাদেশ। ইতোমধেই পটুয়াখালীতে ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরির কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। দশ একর জায়গার ওপর অবকাঠামো কাজ করা হবে। বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ৩৬০টি পাইলিং করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন  বলেন, পটুয়াখালীতে ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরির কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। দশ একর জায়গার ওপর অবকাঠামো কাজ করা হবে। মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ৩৬০টি পাইলিং করা হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন প্রকল্পের আওতায় আমাদের মোট চাহিদা ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথড। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে সংযুক্ত রাখতে সক্ষম হবো।

ট্যাগ: