banglanewspaper

কে.এম.লিমন, গোয়াইনঘাট: সিলেটের অন্যতম পাথর কোয়ারী জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় পাথর উত্তোলনের গর্তে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় গর্ত মালিক উপজেলার নয়া বস্তি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুস সাত্তারকে প্রধান আসামী করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার সকালে নিহত জহুর আলীর মেয়ে জাকিরুন বেগম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ১। এজাহার নমীয় অপর আসমীরা হলেন উপজেলার নয়াবস্তি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল আলিম ও আব্দুল হামিদ, মৃত আজব আলীর ছেলে আব্দুল খালেক, আব্দুল খালেকের ছেলে আলি মিয়া, হাজ¦ী মইনুদ্দিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন, মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে আহাদ মিয়া, আম্বর আলীর ছেলে মহরম আলী, বারেক মিয়ার ছেলে আহমদ আলী, কুনু মিয়ার ছেলে মহিন মিয়া, মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে সুবহান মিয়া, ইনছান আলীর ছেলে সেলিম মিয়া, মৃত ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে ইউসুব আলী ও ইসহাক মিয়া এবং লাখেরপাড় গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে আইয়ুব আলীসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন।

এ ঘটনায় মামলার এজহার নামীয় ৬ নং আসামী সাহাব উদ্দিন নামক এক জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এদিকে এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কিিমটির সদস্যরা হলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সৈয়দ আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ ও আরডিসি আরিফুর রহমান।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন 

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক আলমগীর কবির, গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন চন্দ্র দাস, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ, পরিদশর্ক আবুল মনসুর মোল্লা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেটের সমন্বয়কারী শাহ শাহেদা আক্তার। 

থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায় জানান পাথর কোয়ারি ধসে মাটি চাপায় নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে এজহার নমীয় সাহাব উদ্দিন নামের এক আসামীকে আটক করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় গর্তের মালিক আব্দুস সাত্তার কারাগারে রয়েছে। মামলার অপর আসামীদের আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের জাফলংয়ে মন্দিরের জুম এলাকায় পাথর উত্তোলনের একটি গর্তে পাড় ধসে ৭ শ্রমিক মাটি চাপা পড়ে। এসময় গর্ত থেকে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর গ্রামের মফিজ উল্লাহর ছেলে নুর মিয়া (৫০), হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে জহুর আলী (৬৫), জহুর আলীর ছেলে মুজাহিদ মিয়া (২২) মেয়ে সাকিরুন বেগম (২৬) সহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও তিনজনকে। আহতদের মধ্যে বানিয়াচং উপজেলার জামালপুর গ্রামের তাজউল্লাহর ছেলে সাদেক মিয়া (৪০) নামে এক শ্রমিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। 
 

ট্যাগ: banglanewspaper জাফলং মন্দির জুম এলাকা