banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান (রবিন): মাগুরা জেলার ৭২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুকিপুর্ণ হিসেবে চিহিৃত করে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় সেখানে জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাস করছে হাজার-হাজার কমলমতি শিক্ষার্থী।

ফলে যে কোন সময় এ ভবনগুলো ধ্বসে ঘটতে পারে বড় ধরনে প্রাণহানির ঘটনা। যে কারনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের দাবী দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত এসব ভবন ভেঙ্গে নির্মাণ করা হোক নতুন ক্লাস রুম।

জেলার চার  উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০০টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০টি, শ্রীপুর উপজেলার ২২টি, শালিখা উপজেলার ৩০টি এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ১০টিসহ মোট ৭২টি স্কুলের ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে রড় বের হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।

এর মধ্যে কোন-কোনটি ৪ বছর আগে আবার কোনটি গত মে মাসে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এগুলো ব্যবহারের অনুপয়োগি ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ বা বিকল্প ব্যবস্থা না করায় জীবনের  ঝুঁকি পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনেই চরছে পাঠদান।

শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৪ বছর অগে পরিত্যক্ত ঘোষনা করেছে কতৃপক্ষ। বিকল্প হিসেবে এলাকাবাসীর সহায়তায় ছোট্ট টিনের ঘর নির্মাণ করে সেখানে একটি মাত্র ক্লাস রুম স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অন্য ক্লাসগুলো চলছে পরিত্যাক্ত ঘোষিত ভবনেই।

এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা গুলশান আরা বেগম বললেন, ”ভবনের দুরাবস্থার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সেটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৩ সালে। কিন্তু অদ্যাবধি নতুন ভবন নির্মিত না হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনেই ছাত্রছাত্রীদেরকে পাঠদান করতে হচ্ছে যে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ”।

এখানকার একজন অভিভাবক রেখা বেগম বললেন, ”আমরা ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় সন্ত্রস্ত অবস্থায় থাকি। কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে”। তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়ার স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

মাগুরা সদরের ভায়না আছিয়া খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এই স্কুল ভবনের অধিকাংশ স্থানে ছাদ খসে পড়ে রড় বের হয়ে গেছে।

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শেফালী বিশ্বাস বলেন, “প্রায়ই সামনের উপর ছাদ খুলে পড়ছে। বৃষ্ঠি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। ঝুকিপুর্ণ ভবনের কারনে অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে চান না। বিষয়টি বার-বার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। সম্প্রতি এলজিইডির দুইজন কর্মকর্তা এসে ভবনটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে ব্যাবহার না করতে বলে গেছেন। তিনি বলেন, অভিভাবকরা চাপ দিচ্ছেন। ভয়ে বাচ্চারা স্কুলে আসা কমিয়ে দিয়েছে”।

মহম্মদপুর উপজেলার কলমধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এই স্কুলে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ২৪৯ জন। ১৯৩৫ সালে স্থাপিত এই স্কুলের ৫ কক্ষ বিশিষ্ট মূল ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৬৫ সালে। জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় গত বছর।

ভবনটি সম্পূর্ণভাবেই ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারনে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রায় এক বছর যাবৎ  খোলা আকাশের নীচেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ওই স্কুলের এক ছাত্রীর মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করলেন, ”শ্রেণীকক্ষের অভাবে ছাত্রছাত্রীদেরকে মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। ঠিকমতো লেখাপড়া হচ্ছে না ছেলে-মেয়েদের”।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার কখা স্বীকার করে বললেন,”শ্রেণীকক্ষ সংকটের বিষয়ে আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি ভবন নির্মাণের ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া হবে”।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রুহুল আমিন বললেন, ”মাগুরা জেলায় ৭২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছে। ভবন নির্মাণের চাহিদাপত্রসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা স্কুলের জন্য ভবন বরাদ্দ হয়েছে। অচিরেই যেগুলোর কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন”।

ট্যাগ: Banglanewspaper মাগুরা জীবনের ঝুঁকি সরকারি প্রাইমারী