banglanewspaper

ঢাবি প্রতিনিধি: দিনটি ছিল বাংলা ২৩ শে  পৌষ ১৪২৪। শীতের সকালের ঘন-কুয়াশা কাটিয়ে দূর- দূরান্ত পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গন মুখরিত হতে শুরু করেছে প্রাক্তন একদল উজ্জিবীত প্রাণের সমারোহে। তারাঁ আর কেউ নয়, শত বর্ষের পথে পা বাড়ানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পাশ করে যাওয়া একঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অ্যালামনাই’র ‍উদ্যোগে ‘শতবর্ষের পথে বাংলা বিভাগ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‍উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠান ‍উদ্বোধন করেন ‍উপাচারয অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমী’ এমন দেশের গান দিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠানের মুল পর্ব।

২০১১ সালে ঐতিহ্যবাহী এ বিভাগের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয় ৬৪২ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এরপর ২০১৫ সালে ১০৭২ জন এবং এবার  ১১৫০ জন নিয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ৬০ দশকের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৯৬০ সালে এ বিভাগ থেকে  এম.এ পাশ করা ৫ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন- তোয়েবুর রহমান, খায়রুল বাশার, ফুলে হোসেন, রায়হানা হক।

১৯৬১ সালে  এম.এ পাশ করা সম্মাননা প্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হলেন- অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোর্শেদ,অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইদ, বেগম মেরী মনোয়ার, রাহাত খানসহ ১৯৬২ সালে পাশকৃত অধ্যাপক গোলাম মোর্শেদ, সৈয়দ আব্দুল হাদি, বেগম আছমা আব্বাসী, বেগম হুসনে আরা আকতার এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। তিনি বলেন, তিন বছর পর পর বিভাগের চেয়ারম্যানের রদবদল হয়।ঘটনাচক্রে আমি আজ এ রকম আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে গর্বিত। প্রকৃতির শীতলতার সাথে হৃদয়ের ‍উষ্মতা একাকার হয়েছে। এ বিভাগের সম্মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে তরূন প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় ৬০ দশকের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ১৯৬০ সালের শিক্ষার্থী বেগম আছমা আব্বাসী বলেন, পৌষের এই স্বর্নালী সময়ে টিএসসিতে ‍উপস্থিত সকলকে জানাই  এক সমুদ্র ভালবাসা। শুধু বসন্তে নয়, এ পৌষেও যেন অগনিত ফুল ফুটেছে  আজ টিএসসিতে।  এসময় তিনি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, আহমদ শরীফসহ বেশ কয়েকজন গুনিজনকে স্মরন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাংলা বিভাগের বিদ্যায়তনিক ঐতিহ্যের প্রতি আলোকপাত করে প্রাক্তন ও বর্তমান সকল ছাত্র-ছাত্রী তাদের সকলকে নিজের কর্মক্ষেত্রে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ভাষা, সংস্কৃতি ও নিজের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজেদের জীবনে বাঙালির ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা, চর্চা ও শ্রদ্ধা করার  জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আধতারুজ্জামান বলেন, আজ যেভাবে এ অনুষ্ঠানকে সাজানো হয়েছে, তা অন্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। এটাই বাংলা বিভাগের দর্শন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গুরুত্বপূর্ন কাজ হল, প্রাক্তনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, যাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব অর্জন করেছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper ঢাবি অ্যালামনাই