banglanewspaper

মনিরুল ইসলাম মনি: যান্ত্রিক নগরীর সবকিছুই যেন বোবা ও স্বার্থপর। কৃত্রিমতার বাহারী রঙ আর চটকদারিতার মিথ্যা এ শহর থেকে ক্ষণিক মানসিক প্রশান্তির জন্য ঢাকাস্থ খোকসাবাসীর শুক্রবারের দিনটি ছিল যেন নিরেট রঙের মোহনীয় মায়ায় আঁকা।

ঢাকায় থাকা খোকসাবাসীর মুখপাত্র ‘খোকসা উপজেলা কল্যাণ সমিতি’ ইতোমধ্যেই এগিয়েছে অনেক দূর, পাড়ি দিয়েছে অনেকটা পথ। মানবিকতার অনন্য নিদর্শনের প্রতিকৃতি হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তাসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অথচ বৃহৎ কাজ করেছে সংগঠনটি। সাংগঠনিকভাবেও চাঙ্গা রয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার গাজীপুরের শিমুলতলীর বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার গলফ মাঠের নিরেট সবুজের বুকে চকচকে পানির ধারক লেকের কোলঘেঁষে পুরোটাই দখল করে নিয়েছিল খোকসাবাসী। এ যেন ৮০০ জনের একটি সাজানো-গোছানো পরিপাটি এক সংসার। সংসারটির অভিভাবকের নাম ‘খোকসা’। একই শহরে বাস, পাশাপাশিই অবস্থান। তারপরও দেখা হয় না বছরে। বনভোজনে এসে একে অপরকে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় যেন উৎসবের আনন্দের মাত্রাটিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল শতগুণ। এরই নাম ‘খোকসা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’!

খোকসা সমিতির বাৎসরিক এই পরিসরের নতুন চমক ছিল খোকসা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, চট্টগ্রাম থেকে আসা নেতৃবৃন্দ রেদওয়ানুল করিম রঞ্জু, লিয়াকত হোসেন ও অপূর্ব সাহা। 

খোকসা উপজেলা কল্যাণ সমিতির পরিপাটি সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামের সার্বিক তদারকি ও বনভোজন আয়োজন কমিটির আহবায়ক রবিউল আলম বাবুল ও আনোয়ার হোসেনের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই ফসল খোকসার মানুষের এ মিলনমেলা! এর সাথে ছিল একদল দক্ষ সংগঠক। যাদের একমাসের ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল শুক্রবারের এ বনভোজনটি। 

শুক্রবার সকাল ৭ টা, প্রকৃতিতে পৌষের চরম রাজত্ব, তারউপর শৈত্য প্রবারের প্রবল শীত। হাঁড়কাপুনি সে শীতকে পরাজিত করে রাজধানীর ১২ টি রুট থেকে ১২ টি বাস ছেড়ে যায় গাজীপুরের উদ্দেশ্যে। বাসের মধ্যেই নাস্তার ব্যবস্থা ছিল। সাড়ে নয়টায় পৌঁছে যায় মনোরম প্রাকৃতিক নিদর্শন শিমুলতলীর সমরাস্ত্র কারখানার গলফ মাঠে। রোদ্র তখনও যেন অমাবশ্যার চাঁদ। এরই মধ্যে সমিতির উপদেষ্ঠা মো. সিরাজুল ইসলাম আলোচনা পর্ব শুরু করেন। এখানে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত কবি ও ছড়াকার নাসের মাহমুদ, কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান, সহ সভাপতি এম. এ. সালাম, আব্দুর রাজ্জাক, মহাসচিব রবিউল ইসলাম ও সাংগঠনিক সচিব রিজওয়ানুল ইসলাম রিজু, মো. সিরাজুল ইসলাম, আহসান নবাব, রবিউল আলম বাবুল, আনোয়ার হোসেন, মাছরাঙা টিভির হেড অব নিউজ রেজওয়ানুল হক রাজা, নিউজ টোয়েন্টিফোরের বার্তা সম্পাদক বোরহানুল হক সম্রাট। 

অনুষ্ঠানে নিরলসভাবে শ্রম দিয়েছেন রবিউল ইসলাম, রকিবুল রুকু, কামরুজ্জামান মিঠু, ফারুক আহম্মেদ, জাকির হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পান্না বদরুল, হাফিজুর রহমান সেলিম, নাহিদুল জামান, মনোয়ার হোসেন, নাহিদ জামান, বিপ্লব হোসেন, আবু হেনা, এ্যাড. সালেহা, মনিরুজ্জামান শাহীন, রেজাউল করিম প্রমুখ।   

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় বয়স ভেদে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এরই ফাঁকে মিলনমেলার কাউন্টারের কোল ঘেঁষে থাকা কফির স্টল থেকে কফি পানে শরীর উষ্ণ’ও করে নিচ্ছেন কেউ কেউ। একযোগে আহসান নবাবের ব্যবস্থাপনায় ও কবি নাহিদ জামানের সঞ্চালনায় স্টেজে চলছে উন্মুক্ত অংশগ্রহণে পরিবেশনা। কবিতা, আবৃত্তি, নৃত্য, গান, কৌতুকসহ নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল স্টেজটি। 

অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল পিকনিকের জন্য গলফ মাঠ নির্ধারণের অন্যতম ব্যবস্থাপক উর্মি মোস্তফা ও এটিএম শামসুদ্দিন (মিন্টু) দম্পত্তির মনমাতানো গান ও ম্যাজিক। 

এরপরে শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজ। ভোজের অন্যতম আর্কষণ ছিল খোকসার রমেশের দই। ফাঁকে ফাঁকে চলছে র‌্যাফেল ড্র’এর  কূপন বিক্রি।

সন্ধ্যা তখনও সমাগত, শীত বিকেলের সূর্যটা সবে লাল হয়েছে। এরই মাঝে চলছে র‌্যাফেল ড্র এর চূড়ান্ত প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে সবার হাতে হাতে পৌঁছে রঙিন ব্যাগভরা উপহার ও সন্ধ্যার নাস্তা।

র‌্যাফেল ড্রয়ের পর্ব শেষ করে বনভোজনের সভাপতি বার্ষিক এ আয়োজনের সমাপণ ঘোষণা করেন। 
যাত্রা শুরু হয় আবারও সেই নগরী পানে...

ট্যাগ: banglanewspaper ঢাকা খোকসা মিলনমেলা