banglanewspaper

শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গর্ব করে বলেছিলেন, ”ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস।” এ কথার স্বার্থকতা খুজতে চাইলে ফিরে তাকাতে হবে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের দিকে।চোখ বুলাতে হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতিটি অধ্যায়ে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভাজনের পর বাঙালি জাতি নতুনভাবে শোষণের শিকার হয়। যাকে বঙবন্ধু বলেছিলেন, ”এক শকুনির হাত থেকে অন্য শকুনির হাত বদল মাত্র।” দুরদর্শী নেতা বঙ্গবন্ধু অনুভব করলেন এই হায়েনাদের তাড়াতে হলে বাংলার ছাত্রসমাজকে জাগ্রত করতে হবে, একতাবদ্ধ করতে হবে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া উর্দু ভাষার বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন প্রতিরোধ তৈরির জন্য ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি প্রজ্ঞা ও দুরদর্শীতা সম্পন্ন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন ‘পাকিস্তান ছাত্রলীগ’। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু।

শোষণ আর বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ছাত্রলীগ কখনো তৈরি পথে হাটেনি বরং পথ তৈরি করে নিয়েছে।৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালক করে। ৬৬’র ‘ছয় দফা’ কে প্রতিষ্ঠিত করে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদে পরিণত করেছিল ছাত্রলীগ। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে সব রাজবন্দির মুক্তি, ’৬৯-এর গণঅভ্যুথান’৭০-এর নির্বাচন ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগ গৌরবউজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী শাহাদাৎ বরণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর পদতলে অস্র জমা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে মনযোগ দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতবস্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পথ শিশুদের মাঝে পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন যাবত করে আসছে। ১৯৯৮ এবং ২০১৬ সালের বন্যায় সারাদেশে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে দেশবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে প্রসংশনীয় হয়। সাম্প্রতিককালে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সারাদেশে ছাত্রসমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়ন করতে ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মী একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

৪ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গেল।বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই, ঐতিহ্যের ধারক, বাহক এই সংগঠনকে আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ে অতীত ও বর্তমানের ন্যায় সামনের দিনগুলোতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।সুশীল সমাজ, টকশোওয়ালা ও মিডিয়ার ভাইদের বলব, ছাত্রলীগের খারাপ কাজগুলোকে দূরবীন দিয়ে খুজে বের করে যেমনিভাবে জনসম্মুখে আনেন তদ্রুপভাবে এর পরিপ্রেক্ষিতে যে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া হয় তাও তুলে ধরতে হবে। প্রতক্ষ ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্যেরই অংশ। তৃণমূলেও এর চর্চা আরো বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মেধা, সাহস আর আপোষহীনতার সমন্বয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাবে দেশের সকল দুঃসময়ে।

লাখো তারুণ্যের প্রাণের উচ্ছ্বাস, আবেগ, ভালোবাসা আর ভালো লাগার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম জন্মদিন। ছাত্রলীগের জন্ম না হলে কখনোই বাঙালির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস নির্মিত হতো না। কখনোই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে রঞ্জিত হতো না রাজপথ। গুমরে কাঁদত মানবতা। এ জন্যই জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস।’ শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অতীতের মতো তোমার হাত ধরেই রচিত হোক মহাকালের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস। ইতিহাসের পাতায় পাতায় অক্ষয় হোক তোমার নাম।

শুভেচ্ছা অফুরান। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যেসকল নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন তাদের সকলের আত্মার মঙ্গল কামনা করি এবং ছাত্রলীগের সমৃদ্ধি কামনা করি। স্বার্থকতার উজ্জ্বলতায় আলোকিত হোক প্রতিটি নেতাকর্মীর জীবন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। 

লেখক: মেহেদী আলম তম, 
সহ-সভাপতি,
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ। 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper ছাত্রলীগ অহংকার