banglanewspaper

রাজশাহী প্রতিনিধি : টানা শীতে যেন কাঁপছে রাজশাহী। রবিবার বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশকি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শনিবার বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫ দশকি ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই হিসেবে আজ সকালে তাপমাত্রা আরও দশমিক ৫ ডিগ্রি কমে আসে।

এদিকে তাপমাত্রা হঠাৎ করে নিচে নেমে যাওয়ায় শীতে আরো অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। নিবারণ করতে অনেককে খুড়কুটো জ্বালিয়ে রাখতে দেখা যায়। কিন্তু ছিন্নমূল বা খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে তেমন সাহায্য নিয়ে হাত বাড়ানোর তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব মানুষরা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক হেলেনা খানম জানান, রবিবার রাজশাহীতে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশকি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশকি ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রবিবার ছিল চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আজ রবিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রা নিচে নামার পাশাপাশি উত্তরের হিমেল হাওয়া ঠান্ডার পরিমাণ আরও কয়েকগুন বেড়ে যায়। পাশাপাশি বয়ে যাচ্ছে শৈতপ্রাহ। চলতি সপ্তাহজুড়েই এইরকম ঠান্ডা থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, গত ২ জানুয়ারি থেকে হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। পাশাপাশি কমছে তাপমাত্রা। মাঝে শুধু শনিবার বাদে প্রতিদিনই তাপমাত্রা নিচের দিকে নামছে। গত বুধবার চলতি শীত মৌসুমের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটি গত বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় গিয়ে রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে করে কনকনে শীতে কাবু হয়ে পড়ে জনজীবন। শুক্রবার সেটি গিয়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে পরের দিন শুক্রবার একটু বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু গতকাল শনিবার আবার কমে আসে ব্যাপক হারে। এক ধাপে নেমে আসে ৬ ডিগ্রির নিচে। গতকাল রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রবিবার সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশকি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, ১০ বছর পরে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা তার আগের ১০ বছরের মধ্যে রেকর্ড সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এরপর ২০০৪ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৫ সালে সর্বনি¤œ তপামাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৬ সালে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৭ সালে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৮ সালে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৯ সালে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১০ সালে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১১ সালে ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১২ সালে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৩ সালে ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৪ সালে ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৫ সালে রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৬ সালে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং ২০১৭ সালে চার বছর পরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে তীব্র শীতে অতিষ্ঠ রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের মানুষ। যেন শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন। এমনই অবস্থা বিরাজ করছে গত তিন-চার দিন ধরেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে কাতর হয়ে পড়েছেন কর্মজীবিরা থেকে শুরু করে শিশু ও ছিন্নমূল মানুষগুলো। শীতের কারণে মানুষের চলাফেরা ও কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। অনেককে খড়কুটো সংগ্রহ করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। ফলে শীতে কাহিল হয়ে পড়েন তারা।

নগরীর শিরোইল কলোনী বস্তির বাসিন্দা নাজমা খাতুন বলেন, ‘খুব কষ্টে আছি। এতো শীত তাও একটি গরম কাপড় কেউ দিয়ে যায়নি। শীতের কারণে ঘর থেকেই বাইর হতে পারছি না। তাই কখনো আগুন জ্বালাইয়ে আবার কখনো ঘরের মধ্যে বসে থেকে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু গরম কাপড় গায়ে জড়াতে পারছি না।’

দরিখরবোনা এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘যে শীত তাতে অনেক গরম কাপড়ের প্রয়োজন। কিন্তু পাবো কোথায়? কে দিবে আমাদের কাপড়। যাদের আছে-তারাই হয়তো পাচ্ছে। আমাদের মতো গরীব লোকেরা পাবে না। গরম কাপড় পেলে এতো কষ্ট করে রিকশা চালাতে হতো না।’

তবে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতের কাপড় আছে। গত কয়েকদিন ধরেই আমরা উপজেলা পর্যায়েই শীতের কম্বল বিতরণ করেছি। এখনো করছি। নগরীতে তিনটি টিমের মাধ্যমে শীতের কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। কাজেই কোনো শঙ্কট নাই।’

ট্যাগ: Banglanewspaper শীত রাজশাহী