banglanewspaper

এস,এম, আশরাফুল হক রুবেল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : টানা ৫ দিনের শৈত্যপ্রবাহে কুড়িগ্রামের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে চর ও দ্বীপচরের মানুষজন। প্রতিদিন তাপমাত্রা কমছে, রবিবার সকালে কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

সকাল থেকে দিনের বেশির ভাগ সময় সুর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষজন। গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা।  কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের দোকানে ভীড় করছে মানুষজন। অনেক ছিন্নমুল ও নিম্নআয়ের মানুষ খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন।

এদিকে, শিশু ও বৃদ্ধারা শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে প্রতিদিন ২ শতাধিক রোগী। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জন শিশু, ডায়রিয়ায় ২০ জন, অন্যান্য রোগে ৪৩ জন ভর্তি হয়েছে।

সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সদর হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ৯৮ জন ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। 

এদিকে, শীতকাতর মানুষেরা জানান, গরম কাপড় কেনা সমর্থ না থাকায় শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগ-ব্যাধি নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন তারা। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হলেও কাজ জোটাতে পারছেন না দিনমজুর শ্রেনীর মানুষরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁছগাছী ইউনিয়নের সুরবালা জানান, গত বন্যায় বাড়ির সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখন শীত আসছে কিন্তু গরম কাপড় কেনার সমর্থ নাই। এ অবস্থায় নিদারুন কষ্টে দিন পার করতেছি।  

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত ৫৭ হাজার কম্বলের মধ্যে ৫০ হাজার ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলার অভাবী, দুস্থদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper কুড়িগ্রাম শীত