banglanewspaper

ডেস্ক নিউজ: প্রেমিক যখন কাছে না থাকে তখন কী করেন আপনি? তার স্মৃতিতে ছবিগুলো দেখেন, তাকে নিয়ে বেড়ানো জায়গাগুলোতে যান নাকি কাদেঁন? সঙ্গীর কথা ভাবতে ভাবতেই সময় পার করেন অনেকে। প্রত্যেক মানুষের জীবনে স্ট্রেস থাকে। কখনও মানসিক ভাবে, আবার কখনও শারীরিক ভাবে। তাই সারাদিনের পরিশ্রমের পরে সবাই চান একটু শান্তি পেতে।

মানুষের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে সব সময়ই গবেষকরা পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি একটি গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, নিজের সঙ্গীর পোশাকের গন্ধ শুঁকলে স্ট্রেস কমে। বিশেষত নারীরা এই পদ্ধতির মাধ্যমে স্ট্রেস কমাতে পারে।

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষক মিলে এই কাজটি করেন। গবেষক মারলাইজ হোফার বলেন, ‘‘সঙ্গী যখন দূরে থাকেন, তখন অনেকেই সঙ্গীর পোশাক পরে ঘুমোন। কিংবা সঙ্গী বিছানার যেদিকে ঘুমোন, সেইদিকেই ঘুমোন। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না তারা এই আচরণ কেন করেন।’’

গবেষকের মতে, সঙ্গী শারীরিক ভাবে উপস্থিত না থাকলেও, তার শরীরের গন্ধ স্ট্রেস কমাতে এক অসামান্য ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, কোনও অচেনা মানুষের শরীরের গন্ধ ঠিক উলটো কাজ করে। অচেনা মানুষের দেহের গন্ধ স্ট্রেস হরমোনকে বাড়িয়ে দেয়।

গবেষক হোফারের কথায়, ‘‘শৈশব থেকেই অচেনা ব্যক্তিকে ভয় পায় মানুষ। বিশেষত অচেনা কোনও পুরুষকে। তাই অচেনা পুরুষের গন্ধ মহিলাদের স্ট্রেস বাড়িয়ে তুলতে পারে।’’ গন্ধে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া হওয়ার ব্যাপার নিজেও বুঝতে পারে না মানুষ।

গন্ধ সম্পর্কিত এই গবেষণার রিপোর্ট ‘জার্নাল অফ পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি’তে প্রকাশিত হয়। এই গবেষণায় ৯৬ টি যুগলের ওপরে সমীক্ষা চালানো হয়। পুরুষদের ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি করে টি-শার্ট পরতে দেওয়া হয়। কোনও ধরনের পারফিউম ও সেন্ট ব্যবহার করতেও না করে দেওয়া হয়, যাতে তাদের দেহের আসল গন্ধ নষ্ট না হয়ে যায়।

এরপরে, সবকটি টি-শার্টকে এক জায়গায় রাখা হয়। তখন নারীদের বলা হয় একটি করে টিশার্ট তুলে তার গন্ধ শুঁকতে। দেখা যায়, সঙ্গীর টিশার্টের গন্ধে স্ট্রেস হরমোন কমছে আর অন্য পুরুষের টিশার্টের গন্ধে স্ট্রেস বাড়ছে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি অবলম্বন করে স্ট্রেস কমানোর চিকিৎসাও করা যেতে পারে।

ট্যাগ: Banglanewspaper প্রেমিক গবেষক