banglanewspaper

২০১৪ সালে সিরিয়ায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বর্বর সহিংসতায় ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৪ বছরের সংঘর্ষ-সহিংসতায় গত বছরই সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সে কারণে বিদায়ী বছরকে সিরিয়ার সহিংসতায় সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (বৃহস্পতিবার) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

২০১১ সালের মার্চ মাসে সিরিয়ায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের সহিংসতা শুরুর পর এ পর্যন্ত ২ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জাতিসংঘ কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছে। এর একটি বিশাল অংশই বেসামরিক নাগরিক।

গত বছরকে সিরিয়ার জন্য একটি ভয়াবহ সময় বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

তাদের হিসাব মতে, সিরিয়ায় নানা বাহিনীর সংঘর্ষের মাঝে পড়ে প্রায় ১৮ হাজার বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে গত এক বছরের গৃহযুদ্ধে। যার মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার শিশু রয়েছে।

এ সংখ্যা অন্য কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি, তবে গত ৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ২ লাখের বেশি বলা হচ্ছে। এ সংখ্যা সিরিয়ার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

দেশটিতে সংঘর্ষের হাত থেকে পালিয়ে ঘরছাড়া হয়েছে ১ কোটির বেশি মানুষ।

দেশে বসবাসকারী অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রবল দারিদ্র্যের মুখে রয়েছে। অর্ধেকের বেশি শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে রয়েছে।

৪ বছর আগে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিয়ে বিষয়টির শুরু হলেও পরে সিরিয়াব্যাপী এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। যার অংশীদার সরকারি বাহিনী, বিদ্রোহী যোদ্ধা, সিরীয় ও বিদেশি জিহাদি সংগঠনের সদস্যরা। তাদের মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি।

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি আনুগত্যের ফলে ২২ হাজারের মতো সরকারি সেনার মৃত্যু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে বিদ্রোহীদের মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি।

এ ভয়াবহ পরিস্থিতি বন্ধে জাতিসংঘ একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য মধ্যস্থতা করে যাচ্ছে।

তবে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, এ লড়াই বন্ধে কোথাও কোনো বড় উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তাই সিরিয়ায় কাছাকাছি সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণ নেই।

ট্যাগ: