banglanewspaper

এস,এম, আশরাফুল হক রুবেল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নদীবিধৌত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে শীত জেকে বসেছে। গত কয়েকদিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কনকনে ঠান্ডা ও উত্তরের হাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাধারন মানুষজন।

সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বেশ বেকায়দায় পড়েছে মজুর শ্রেনী তারা শীতের কারনে কাজে যেতে পারছে না। দুপুর বেলা কিছু সময়ের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও বিকেল থেকে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় সন্ধ্যার পর পথগুলো ফাকা হয়ে যায়।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে গত কয়েকদিনে প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে আর গত ২৪ ঘন্টায় শীতজনিত রোগে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে নিউমোনিয়া ডায়রিয়া সহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

কুড়িগ্রামে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা এ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। রাত ও দিনের তাপমাত্রার তারতম্য না থাকায় কাজে বের হতে পারছে না শ্রমজীবি মানুষজন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে নদ-নদীর অববাহিকার চর ও দ্বীপচরের মানুষজন। রেহাই পাচ্ছেনা গবাদি পশুরাও। গরম কাপড়ের অভাবে সর্বত্রই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। শীতার্ত মানুষজন গরম কাপড়ের জন্য সরকার ও বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছে।

‘হামার কিছু নাই বাহে, গরম কাপড় নাই। ঠান্ডায় বাঁচি না, বাধ রাস্তায় থাকি। কেউ হামার খোঁজ নেয় না।’ কথাগুলো বলেছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভেলাকোপা গড়ের পাড় এলাকার ছবরন বেওয়া (৬০)। এতিম পাঁচ নাতি-নাতনি নিয়ে ছাত্রদের মেসে রান্না করে কোন রকমে সংসার চলান তিনি। তার উপর গরম কাপড় কেনাটা তার নিকট দুঃস্বপ্নের মতো।

হঠাৎ করে প্রচন্ড ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গরম কাপড়ের অভাবে বিপাকে পড়েছেন ছবরন বেওয়ার মতো হতদরিদ্র হাজারো মহিলা।  

এদিকে বেসরকারী সাহায্য সংস্থা আশা আজ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে ৩ শতাধিক কম্বল সাহায্য হিসেবে প্রদান করেছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper কুড়িগ্রাম শৈত্যপ্রবাহ মৃত্যু