banglanewspaper

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট: গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে শীত জেঁকে বসেছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে। এতে জনজীবনে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগসহ নানা সমস্যা। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সূর্য্যের দেখা মিলছে না উত্তরাঞ্চলের কোন জেলায়।

হেড লাইট জ্বালিয়ে দিনের বেলায় গাড়ি চলাচল করছে। রয়েছে যানবাহনে ধীরগতি। তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়েছে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী স্বল্প আয়ের মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ছিন্নমুল মানুষের মাঝে রয়েছে শীত বস্ত্রের তীব্র সংকট। বাড়ছে শীত জনিত রোগের প্রকোপ।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, গত দুই তিন দিনে লালমনিরহাট জেলার সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এ অবস্থায় শীতকাতর মানুষেরা খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় শীত বেশি অনুভুত হওয়ায় শীতকষ্টে দিনাতিপাত করছে এখানকার হাজার মানুষেরা।

বিশেষ করে গত ৫/৭ দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নিন্ম আয়ের দুস্থ পরিবার গুলো প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্রের অভাবে নিদারুণ দুর্ভোগে পড়েছে। হাজারও শিশু এবং বৃদ্ধরা ডায়রিয়া এবং নানা শীতজনিত রোগে কাহিল হয়ে পড়েছে। এদিকে শুধু সরকারিভাবে কিছু শীত বস্ত্র বিতরন করা হলেও জেলার কোথাও বেসরকারীভাবে বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরনের কোন খবর পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জেলা ত্রান শাখাতেও কোন তথ্য নেই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রানভান্ডার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর দিন দফায় ৩১ হাজার ৯শত ২১ পিচ কম্বল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যান্ত অপ্রতুল। জেলার ৫টি উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, প্রতিটি উপজেলাতেই ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়েছে। 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বিভিন্ন জনপদে ঘুরে দুস্থদের মধ্যে নিজ হাতে উল্লেখযোগ্য শীতবস্ত্র গত কয়েকদিনে বিতরন করেছেন। তবে জেলায় আরও কিছু শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে।

প্রচন্ড ঠান্ডায় অচল হয়ে পড়ছে নদ-নদী তীরবর্তী এই জেলার মানুষ। গত ৫/৭দিন ধরে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বইতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। গত কয়েকদিনে সুর্য্যরে দেখা মিলছে না। এতে কাহিল হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। দেখা দিচ্ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ ব্যাধি। শীতবস্ত্রের অভাবে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, জেলার ‘হত দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতে কাঁপছে। রাতে খড়কুটো জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। এসব অধিকাংশ হতদরিদ্র মানুষের শীতবস্ত্র কেনার কোন সামর্থ্য নেই।’

স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল দুইজন কর্মকর্তা সিভিল সার্জন ডাঃ কাশেম আলী ও সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আহসান হাবিব বাবু জানান, পরিস্থিতি সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে এবং যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা স্বাস্থ্য বিভাগের রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত জেলায় মাত্র তিনটি শিশু শ^াস কষ্ট জনিত রোগে এবং ৯জন ডায়রিয়া রোগে ভর্তি রয়েছে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper লালমনিরহাট শৈত্যপ্রবাহ