banglanewspaper

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলায় ঘন্টার ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে নেমে এসে দাঁড়িছে ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সেই সাথে শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেনা কেউ।

তীব্র এই শীতে বাইরেতো দুরের কথা ঘরের মধ্যেও টেকা দুরুহ হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল ৯ টায় সুর্য্যরে দেখা মিললেও তা ছিল নিরুত্তাপ। ঘন কুয়াশা আর একটানা হিমেল বাতাসে মানুষের দুর্দশাকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে এরকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে অন্তত আরো ৪/৫ দিন। এরপর ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা কমবে।

নওগাঁ সদার হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মনীর আলী আকন্দ জানান, সদর হাসপাতালে শীতজনিত সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকদের। বিশেষ করে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে ডায়রিয়া ও নিমোনিয়া রোগ নিয়ে। গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অ্যাজমা নিয়ে সাধারনত আসছে বয়স্করা।

এ সংখ্য প্রতিদিন প্রায় ১০/১৫ জন। এছাড়া বর্হিবিভাগে চিকৎসা দেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ জন রুগিকে। এসময় শীতজনিত রোগের চিকৎসার জন্য যে অসুধ প্রয়োজন তা তুলনায় সরবারাহ কম। তবে জেলায় এ পর্যন্ত শীতজনিত রোগে হাসপাতালে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তরের উপ পরিচালক মনোজিৎ কুমার মল্লিক জানান, তীব্র শীতে জমিতে চাষকৃত শস্যের কি সমস্যা হচ্ছে তা এখনই বলা যাবেনা। এর প্রভাব ক’দিন পর বোঝা যাবে। তবে শীতের তীব্রতা জনিত কারনে ধানের বীজতলায় পচন ধরার সম্ভবনা থাকে। টমাটো ও আলু ক্ষেতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে গতবছরের তুলানায় এ বছর সরকারী ও বেসরকারী ভাবে শীতবস্ত্র বিতরনের উদ্যোগ খুবই কম। যাওবা দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একবাইে কম। বয়স্ক একাধিক ব্যক্তি জানান নওগাঁ জেলায় গত ৫০ বছরেও এমন শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়নি। ফলে সেই প্রস্তুতি শীতর্তদের নাই। এতে সব কিছুতেই নেমে এসছে স্থবিরতা।

ট্যাগ: Banglanewspaper নওগাঁ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ