banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (ময়মনসিংহ): প্রচারনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নেত্রকোণা-৩ ( কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মানিক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতিকের আশায় কেন্দ্রে লভিং ছাড়াও এলাকায় গণসংযোগ, পথ সভা, শোডাউন, নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়সহ সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছেন তিনি। প্রচারনায় ক্ষেত্রে এবার নৌকায় পাল উড়িয়ে কেন্দুয়া-আটপাড়া বাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্যালেন্ডার ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া হচ্ছে।  যোগ করেছেন পরিবর্তন ও উন্নয়নের আশায় সাধারণ ভোটাররাও তাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, বিগত সময়ে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে কেন্দুয়া-আটপাড়াবাসী। তাই বর্তমান সময়ে নতুন নেতৃত্ব আসলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এই আসনে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হবে। আওয়ামীলীগ রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ৭৫’র ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারে হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারীদের অগ্রনায়ক মানিক বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনে যোগ্য ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দিবে। দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তাই আশা করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বিবেচনায় আমাকে মূল্যায়ন করবেন। 

সাবেক চলচিত্র প্রযোজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক আরো বলেন,আমি মনোনয়ন পেলে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হব। এবং সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমি আমার সর্বাত্মক দিয়ে সাধারন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাব।
তিনি আরো বলেন যদি আমি কোন কারণে মনোনয়ন না পাই তাহলে দল যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার হয়ে কাজ করব।

এ দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন ভোটাররা জানান,কেন্দুয়া-আটপাড়া রাজনীতির ময়দানে অল্প সময়ে এলাকার মানুষকে তিনি কাছে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটাররা তাকে আপন ভাবতে শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে যে কয়েকজন এগিয়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মানিক। দলীয় নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষও তাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। এই যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বলে দাবী করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তারা প্রত্যাশা করেন, যোগ্য ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার জন্য।

১৯৫৫ সালে ১২ জানুয়ারী বাবা-মায়ের কোল আলোকিত করে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের কুনিহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন জাতির শ্রেষ্ট সন্তান সাইদুর রহমান মানিক।

কুনিহাটির পাশের গ্রাম বর্তমানে নেত্রকোনার সদর উপজেলার চন্দনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় তাঁর।
বেখৈরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম ও বেখৈরহাটি এনকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ষ্ট শ্রেণি পাশ করে তিনি নেত্রকোণা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৮ম শ্রেনি পাশ করেন।

পরে কিশোরগঞ্জের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৭০ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭২ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ হতে এইচএসসি এবং ১৯৭৬ সালে বিএ পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (ল) এলএলবি ও ১৯৮০ সালে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ডিগ্রী লাভ করেন।

কিশোরগঞ্জের আজিমউদ্দিন স্কুলে অধ্যায়নকালে স্বাধীকার আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা ৬৯’র গণউভে¦াস্থান সক্রিয় অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে ছাত্ররাজনীতি জড়িয়ে পড়েন সাইদুর রহমান মানিক। 

দেশ স্বাধীনতা আন্দোলনে গেরীলা প্রশিক্ষণ নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা মনোযোগী হন। গুরুদয়াল কলেজে স্নাতক শ্রেনিতে অধ্যায়ন কালে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে হত্যার সংবাদ পেয়ে এডভোকেট গোলাম হায়দার চৌধুরীর নেত্বত্বে তারা ২০ জন বন্ধু মিলে সকাল ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। ইতিহাসে এটাই হল বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারে হত্যার প্রথম প্রতিবাদ মিছিল। মিছিল নিয়ে কিছু দুর এগোতেই পুলিশ তাদের চত্রভঙ্গ করে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে জারী হয় হুলিয়া। যার ফলে এবছর তার ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া হলো। 

অনেক দিন তাদের থাকতে হয় আত্মগোপনে ও পরের বছর ১৯৭৬ সালে চদ্দ্রবেশে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিএ (স্নাতক) ডিগ্রী অর্জন করেন। এ অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনবিভাগে ভর্তি হন। সফলতা সাথে এলএলবি পাশ করে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। এদিকে ১৯৭৮ সালে উত্তরা ব্যাংকে তিনি কর্মে যোগদেন। চাকুরী ইস্তফা দিয়ে ১৯৮০ সালে আইনপেশার পাশাপাশি চলচিত্রে যোগদেন। তার প্রযোজনা ৩৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে এবং পরান পাখি নামে সিনেমার তিনি একাই পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন।

তিনি ২০১২-১৩ মেয়াদে চলচিত্র প্রযোজনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ কেন্দুয়া সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক,ঢাকাস্থ নেত্রকোণা সমিতির সাধারণ সম্পাদক,ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির কোষাদক্ষ ও ঢাকা বারে ২০১৬-১৭ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দ্বায়িত্ব পালনে ব্যাপক সুনাম কুঁড়িয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবি বর্তমানে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় আইনজীবি পরিষদের আহবায়ক কমিটির সদস্য,বৃহত্তর ময়মনসিংহ আইনজীবি পরিষদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দেশের নামকরা বিভিন্ন সংগঠন ও  প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন।

 

 

ট্যাগ: Banglanewspaper নেত্রকোণা আসন সাইদুর রহমান