banglanewspaper

এস. এম. আশরাফুল হক রুবেল, কুড়িগ্রাম: অব্যাহত কয়েক দিনের শৈত্য প্রবাহে কুড়িগ্রামে দুর্ভোগ বেড়েছে জনজীবনে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ শিশুসহ ৩জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসরা জানান, শীত জনিত রোগে নয় হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে গুরুত্বর অসুস্থ এক শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার জেলার সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বিকেল থেকেই তাপমাত্রা নিন্মগামী হওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় মানুষজন খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ অবস্থা চলছে দুপুর পর্যন্ত। গরম কাপড়ের অভাবে কাজে যেতে পারছেন না শ্রমজীবি মানুষেরা। চরম শীত কষ্টে ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা। খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন নিন্ম আয়ের মানুষেরা।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের আফরোজা বেগম জানান, বর্তমানে দিনের বেলা সুর্যের দেখা মেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলেও সন্ধা হওয়ার সাথে সাথেই কনকনে ঠান্ডায় আর ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। গরম কাপড় নাই ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত গত ২৪ ঘন্টায় ৩জনসহ ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ১৪জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রকোপ বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাস কষ্টসহ শীত জনিত রোগের। এসব রোগে শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আমিনা বেগম জানান, ছেলের পাতলা পায়খানা ৪ দিন থেকে। বাড়িতে ঔষধ খাওয়ানোর পরও কোন কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে একটু সুস্থ হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শাহিনুর রহমান সরদার জানান, সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ১শ ৮২জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। গত ২৪ ঘন্টায় এক শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে কেউ শীত জনিত রোগে মারা যায়নি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, জেলার ৯ উপজেলায় অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে সরকারীভাবে ৫৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো ৫০ হাজার কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কম্বল পাওয়া মাত্র বিতরন করা হবে।
 

ট্যাগ: Banglanewspaper কুড়িগ্রাম শৈত্য প্রবাহ হাসপাতাল