banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া: নেত্রকোণা-৩: (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের জন্মভিটা কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণায় আগমন উপলক্ষে জনসভার আয়োজন করেছে সান্দিকোণা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আগামী ১১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে সান্দিকোণা স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ইতি মধ্যে জনসভাকে বিশাল জনসভায় রূপান্তরিত করতে কাজ করছেন সকল স্তরের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। তারা সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক, পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিং করে জননেতা অসীম কুমার উকিল ও তার সহধর্মীনী বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের আগমনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সর্বমহলে। পুরুষ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা বসে নেই। তারাও প্রিয় নেতার জনসভা সফল করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

কেন্দুয়ায় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতিতে উজ্জল নক্ষত্র ও দীপ্তিমান হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে অসীম কুমার উকিল বিচরণ করেছে সারা বাংলায়। শৈশবে স্কুল ছাত্রাস্থায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্র রাজনীতিতে পথচলা শুরু। দীর্ঘ সময়ে রাজনীতিত্বে নিপীড়ন-নির্যাতন,হামলা-মামলা এবং কারাবরণেও বিচ্যুতি হননি বরং শানিত করছেন তার রাজনীতির অগ্রযাত্রা। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে হয়েছেন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। অসীম কুমার উকিল আগামী দিনে দেশ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। তার ভাষ্যমতে,একজন রাজনীতিবিদের লক্ষ্যই থাকে এমপি হওয়া। এটা না হলে পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ বলা যায় না। আগামী দিনে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতাকে চান তিনি। নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানের অন্যতম রূপকার সাবেক এই ছাত্রনেতা

আগামী জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনটিতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই রাজনীতিবিদ কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণার ইউনিয়নের সান্দিকোণা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী উকিল বাড়ির সন্তান। পিতা স্বগীয় সুকুমার উকিল ও মা স্বগীয় রেখা রানী উকিলের কোল আলোকিত করে ১৯৫৭ সালে ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহন করেন। গ্রামের পাঠশালা সান্দিকোণা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু হয় শিক্ষাজীবন। ১৯৭৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও ১৯৭৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন।

১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পরিসংখ্যানে বিএস সি (অনার্স) ও ১৯৮১ এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। স্কুল জীবনেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৮ সালে জগন্নাথ হল শাখার ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে ছাত্রনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এরপর তিনি ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র/ছাত্রী সংসদ (ডাকসু) সদস্য, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ হল শাখার সভাপতি, ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ন আহবায়ক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রচার সম্পাদক ও ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।

ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক এবং ২০০২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ- প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে পুনরায় একই পদে ২০০৯ ও ২০১২ সালে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। রাজনীতির মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সামরিক শাসকদের প্রবেশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ছিলেন। নব্বইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার হিসেবে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিএনপি-জামাত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি অমানুষিক নির্যাতন-নীপিড়নে শিকার হন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়।

২০০৭ সালে ১/১১ মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার তাকে গ্রেফতার করেন। দীর্ঘ সাত মাস কারাবাসের পর মুক্তিপান তিনি। ১৯৯৩ সালে রাজনীতির আরেক তারকা অপু উকিলের সাথে পরিনয়ে আবদ্ধ হন এই নেতা। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই পুত্র সন্তানের জনক। এই প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি সংবাদপত্রের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।

তিনি দৈনিক বাংলার বানী পত্রিকার সহ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে জাপান সফর করেছেন। ছাত্রনেতা হিসেবে চেকোশ্লাভিকিয়া ও ভারত এবং আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে চীন, ভারত, বৃটেন, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফান্স, সুইজারল্যান্ড, ইটালী, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেছেন। কেন্দুয়া-আটপাড়া রাজনীতি অঙ্গনে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনপ্রিয়তা যাচাই-বাচাইয়ের জন্য তৃর্ণমূল ভোটে প্রার্থী হয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দুয়া-আটপাড়া চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। গ্রামে গ্রামে করছেন গণসংযোগ।

জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি এলাকার বর্নাদুর্গতদের ছাড়াও প্রতিবন্দ্বী,অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। তার প্রচেষ্টায় বহু শিক্ষা,ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। স্বামীর পাশাপাশি সংসদীয় এই আসনটিতে নৌকার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণায় চালিয়ে যাচ্ছেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল।

সান্দিকোণা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জমান কাজল বলেন, আশা করছি জনসভায় ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটবে আর সেই লক্ষে আমরা কাজ করছি।

ট্যাগ: Banglanewspaper নেত্রকোণা ছাত্রলীগ