banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান (রবিন) : কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করায় এবার মাগুরা জেলার ৪ উপজেলায় মানসম্পন্ন ধানের চারা উৎপন্ন হয়েছে। যা আগামী বোরো মৌসুমে ধানের ভালো ফলন ও অধিক উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

মাগুরা সদর উপজেলার আঠারোখাদা, মঘি, আঙ্গারদাহ, শেখ পাড়া, শালিখার শতখালী, রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা এবার কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করেছেন।

সদরের আড়াইশত গ্রামের পরিমল বিশ্বাস, কুমারেশ বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, অতীতে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে বীজতলা তৈরি করতেন। এতে খরচ বেশি হতো লাগতো। পরিচর্যার অভাবে চারার মানও খারাপ হত। এবছর কৃষি বিভাগের পরামর্শে এলাকার কৃষকরা সম্মিলিতভাবে একত্রে কমিউনিটি পদ্ধতিতে বড় পরিসরের জমিতে বীজতলা তৈরি করছেন। এতে খরচ যেমন কম হচ্ছে। তেমনি চারার মান ভাল হচ্ছে। এতে করে বোরো মৌসুমে তারা এই চারা ব্যবহার করে ধানের ফলন যেমন ভালো পাবেন। তেমনি এবার চারার সংকট না থাকায় অতীতের তুলনায় অধিক জমিতে ধানের আবাদ করতে পারবেন।

তাদের মতে, গত মৌসুমে  দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা চলতি মৌসুমে বেশি জমিতে ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, এ বছর সদর উপজেলায় ৩৪ টি স্থানে কমিউনিটি বীজতলাসহ ৪ উপজেলায় ২ শতাধিক কমিউনিটি ও আদর্শ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এতে করে সব দিক দিয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কমিনিটি বীজতলার তৈরী ফলে চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুন বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫শ’ হেক্টর জমিতে বীজতলা ও ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে বরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে বীজ তলা তৈরী হয়েছে প্রায় দ্বিগুন ২৬শ’ হেক্টর জমিতে। যে কারনে চলতি মৌসুমে বরো ধানের চাষও দ্বিগুন বৃদ্ধি পাবে।

ট্যাগ: Banglanewspaper মাগুরা বোরো ধান