banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট : শীতকালকে অনেকেই ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন। শীতকালীন ছুটিতে লম্বা সফরে বেরিয়ে পড়া যায় সহজেই। শুধু দেশের বাইরেই নয়, শীতকালে দেখার মতো অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে দেশের মধ্যেই। আসুন জেনে নেই তেমন কিছু স্থানের নাম-

সুন্দরবন

কল্পনা করুন যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর একটি ঘর আছে, যেখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত সুবিধা রয়েছে, জানালা থেকে আপনি সুন্দর নদী দেখতে পারেন, আপনি নিজের নৌকা নিতে পারেন এবং বনভূমির ভিতরে যেকোন সময় যেতে পারেন। কেমন হয় তাহলে? নিঃসন্দেহে চমৎকার। এই অনুভূতির জন্য খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। ধুরে আসুন সুন্দরবনের গোল কানন কটেজ থেকে।

আর জাহাজে থাকা নয়, এখন সুন্দরবনের কোল ঘেষে ইকো রিসোর্টে থেকে প্রকৃ্তি উপভোগ করার সুযোগ। সাথে থাকছে নৌকায় করে ছোট ছোট খালে ঘুরে বেড়ানো, গভীর জঙ্গলের মাঝে আসল রূপ দেখার জন্য করমজল এবং হাড়বাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র। এছাড়াও খুলনার ঐতিহ্যবাহী চুইঝালের মাংস খাওয়ার সুযোগ।

সাজেক ভ্যালী

মেঘ আর কুয়াশার অপূর্ব খেলা দেখতে চাইলে যেতে পারেন সাজেক ভ্যালী। যদিও বছরের সব সময়ই এখানে টুরিস্টদের আনাগোনা থাকে তবে শীতকালে এখানে টুরিস্টরা বেশিই যান। পাহাড়ের উপরেই রিসোর্ট, যেখান মেঘের ভেলা আপনাকে যে কোন সময় ঢেকে ফেলবে। সাজেক এমন একটি যায়গা যেখানে প্রতি মুহুর্তে নিজের রুপ বদলায়। সকালের সুর্যাস্ত, বিকেলের গোধূলি, সুর্যাস্ত অথবা রাতের নির্জন সাজেক এক এক সময় সাজেকের এক এক রূপ।

পঞ্চগড়

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ের পুরোটাই জুড়ে রয়েছে অনেক চা বাগান। সমতল ভূমির চা বাগান দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই পঞ্চগড় ঘুরে আসতে হবে। গ্রাম্য পরিবেশে কনকনে শীতে আপনি উপভোগ করতে পারবেন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। এছাড়াও যদি মেঘ/কুয়াশা মুক্ত পরিষ্কার আকাশ থাকে তাহলে আপনি দেখতে পারবেন এভারেস্টের ২য় উচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।

টাঙ্গুয়ার হাওর

বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি এটি। বিস্তৃত নীল পানি এবং ছোট ছোট পাহাড় সবকিছুই আপনি পাবেন এই হাওরে। টাঙ্গুয়ার হাওরের সাথে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন বাংলার কাশ্মীর নামে পরিচিত নিলাদ্রী এবং টেকের ঘাট, এছাড়াও রয়েছে যাদু কাটা নদী এবং তাহেরপুর। এই হাওরে আপনার ভ্রমণের জন্যে অপেক্ষায় আছে মাঝিরা, তাদের নৌকা রিজার্ভ করে আপনি ঘুরতে পারবেন পুরো হাওর। থাকতে পারবেন সেই নৌকাতেই এবং হাওরের টাটকা মাছ দিয়ে আপনার জন্য রান্নাও করা হবে সেই নৌকাতেই। টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সাথে সাথে ইচ্ছঅ করলে সুনামগঞ্জ ঘুরে আসতে পারেন।

সেন্টমার্টিন  

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত দারুচিনি দ্বীপ এবং নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত এই সেন্টমার্টিন। নীল পানির মাঝে ছোট্ট এই দ্বীপটি আপনাকে দিবে এমন এক অনুভতি যা আপনাকে অনেকদিন ঘোরের মধ্যে রাখবে। সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সাথে সাথে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন ছেড়া দ্বীপ।

নিঝুম দ্বীপ 

নিঝুম দ্বীপকে যদিও অনেকে সমুদ্রে জেগে উঠা দ্বীপ বলে তবে এটি আসলে সাগরের মোহনায় তৈরি হওয়া একটি চর। এই দ্বীপে দেখা মিলবেে অসংখ্য হরিণের। এই দ্বীপের প্রায় সকল গাছেই রয়েছে শ্বাসমূল যার কারণে আপনি সুন্দরবনের একটু ছোঁয়া পাবেন এই বনে। শীতকালে এই দ্বীপে হাজার হাজার পাখির সমাবেশ ঘটে। মেঘনার টাটকা মাছের স্বাদ আপনার ঠোটে লেগে থাকবেই, আর টাটকা খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড় আপনাকে দিবে এক অতৃপ্ত স্বাদ।

কুয়াকাটা

সমুদ্র কন্যা হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটাই বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র যেখানে আপনি একসাথে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটিই দেখতে পারবেন। কুয়াকাটায় ভ্রমণের সময় আপনি দেখতে পারবেন সতবর্ষী নৌকা, বৌদ্ধ মন্দির, লেবুর চর, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, রাখাইন পল্লি, বার্মিজ মার্কেট ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি খেতে পারবেন সমুদ্রের টাটকা মাছ।

ট্যাগ: Banglanewspaper শীত ভ্রমণ