banglanewspaper

সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর(রা) এর একজন গোলাম ছিল। সে হযরত আবু বকরকে মুক্তিপণ হিসেবে কিছু অর্থ দেয়ার শর্তে মুক্তি চাইলে তিনি তাতে সম্মত হন। অতঃপর প্রতিদিন সে তার মুক্তিপণের কিছু অংশ নিয়ে আসতো।

হযরত আবু বকর(রা)তাকে জিজ্ঞেস করতেন, কিভাবে এটা উপার্জন করে এনেছ? সে যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারত তবে তা গ্রহণ করতেন, নতুবা করতেন না। একদিন সে রাতের বেলায় তাঁর জন্য কিছু খাবার জিনিস নিয়ে এল। সেদিন তিনি রোযা ছিলেন। তাই তাকে সেই খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভুলে গেলেন এবং এক লোকমা খেয়ে নিলেন।

তাঁরপর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ খাবার তুমি কিভাবে সংগ্রহ করেছ? সে বললোঃ আমি জাহেলিয়াত আমলে লোকের ভাগ্যগণনা করতাম। আমি ভালো গণনা করতে পারতাম না। কেবল ধোকা দিতাম। এ খাদ্য সেই ভাগ্যগণনার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংগৃহীত। হযরত আবু বকর(রা) বললেনঃ কী সর্বনাশ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে ফেলার উপক্রম করেছ। তারপর গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বমিতে খাওয়া জিনিস বেরুলোনা।

তখন তিনি পানি চাইলেন। পানি খেয়ে খেয়ে সমস্ত ভু্ক্ত দ্রব্য পেট থেকে বের করে দিলেন। লোকেরা বললঃ আল্লাহ আপনার উপর দয়া করুন। ঐ এক লোকমা খাওয়ার কারণেই কি এত সব?

হযরত আবু বকর(রা) বললেনঃ ঐ খাদ্য বের করার জন্য যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হতো, তবুও আমি বের করে ছাড়তাম। কেননা আমি শুনেছি, রাসূল(সা) বলেছেনঃ “যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোযখের আগুনই উত্তম।” তাই আমি আশংকা করেছিলাম যে এই এক লোকমা খাদ্য দ্বারা আমার শরীরের কিছু অংশ গঠিত হতে পারে।

শিক্ষাঃ আখিরাতের কঠিন ও অবধারিত শাস্তির কথা মনে রেখে সব সময় হালাল হারাম বাছ বিচার করে চলা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

ট্যাগ: Banglanewspaper হযরত আবু বকর খোদাভীতি