banglanewspaper

ডেস্ক নিউজ: সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থানের শেষে বিমানবন্দর সড়কের দখল ছাড়ল তাবলিগ জামাতের অনুসারীরা। সড়ক দখল করে সমাবেশ করায় তীব্র ভোগান্তি শেষে বিকাল সাড়ে চারটার পর যান চলাচল শুরু হয় বিমানবন্দর সড়কে।

দুই গ্রুপে বিভক্ত তাবলিগ জামাতের একটি একটি অংশ জামাতের কেন্দ্রীয় এক শুরা সদস্যের বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করলে যানজটেরও শুরু হয় বলে জানান বিমানবন্দর থানার ওসি নূর এ আজম।

পুলিশ জানায়, তাদের তৎপরতায় বিমানবন্দর গোল চত্বর থেকে হাতে গোনা কিছু যানবাহন বনানীর দিকে আসতে পারলেও বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী বাজার ছাড়িয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তায় যানবাহন স্থবির হয়ে রয়েছে।

ঢাকা-গাজীপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী সব বাস সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের অনেককে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা দেছে।

বিক্ষোভকারীরা মাওলানা সাদকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে তাকে দিল্লি ফেরত পাঠানো হবে। যে পর্যন্ত তাকে দিল্লি ফেরত পাঠানো না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইজতেমা গেটে অবস্থান চলবে। কোনো অবস্থানেই তাকে্ ইজতেমা ময়দানেন ঢুকতে দেয়া হবে না।

অবস্থান স্থগিতের পর মুসুল্লিরা বিমানবন্দর সড়কেই আসরের নামাজ পড়েন। এরপর বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় ফিরে যায় আর সড়কের দুই পাশে যান চলাচল শুরু হয়।

তাবলিগ অনুসারীরা দিনভর সড়ক দখল করে সমাবেশ করায় বিমানবন্দর মোড়ে সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে লাখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠে। বিকল্প না দেখে গাড়ি থেকে নেমে মানুষ দীর্ঘপথ হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়।

তাবলিগ জামাতের একাংশের নেতা দাবি করে একজন বলেছেন, আসরের নামাজের পরে এখান থেকে পাঁচ হাজার জন টঙ্গী ইজতেমা মাঠে চলে যাবে। সাদ যেন ঢুকতে না পারেন, সেজন্য মহাখালী থেকে ঢাকা দক্ষিণের দিকে যত মাদরাসা আছে সেখানকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কাকরাইল অভিমুখে রওয়ানা হয়েছেন।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ঠেকাতে সকাল থেকেই বিমানবন্দর একালায় বিক্ষোভ শুরু করেন হাজার হাজার আলেম ওলামা।

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর বিকেলে তাকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেয়া হয়।

পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগ: Banglanewspaper তাবলিগ যানজট ভোগান্তি বিক্ষোভ