banglanewspaper

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত ১সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবি ও দিনমজুর মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। কাঁথা কম্বল গায়ে জড়িয়ে বিছানায় দেহ নিতিয়ে রয়েছে।

শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছে অতিকষ্টে। তারা গরম কাপড়ের অভাবে জড়োসড়ো হয়ে রয়েছে। হিমেল হাওয়ায় জীবন আরো দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দিনের মধ্যভাগে মাঝে মধ্যে রোদের ঝিলিক দেখা দিলেও বিকালের দিকে কুয়াশায় চারিদিক ঢেকে যায়। তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলের ছিন্নমুল অসহায় পরিবারগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। প্রচন্ড ঠান্ডায় কমদামী ও গরম কাপড় এবং জুতার দোকান গুলোতে মানুষের ভিড় উপছে পড়েছে।

এ সুযোগে শীতের কাপড় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিন আগে ওই সব দোকান মালিকরা গালে হাত দিয়ে বসে ছিল। হাঁড় কাপানো ঠান্ডা পরায় তাদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে অফিসগুলোতে তেমন লোকজনের ভিড় দেখা যায় না। ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বাড়ীতে বা রাস্তার মোড়ে খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডা প্রকট আকার ধারন করে। এদিকে শুধু মানুষ নয় গবাদী পশু গরু-ছাগল-ভেড়ার গায়ে উঠেছে পাটের চট ও গরম কাপড়।

অপরদিকে বৈরি আবহাওয়ায় আমের মুকুল, আলু, ধানের চারা, মশুর সরিষা, সবজি ক্ষেতের মালিকরা দুঃশ্চিতায় পড়েছেন। এভাবে শৈত প্রবাহ চললে এসব ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে কৃষিবিদগণ আশংকা করছেন। রাজারহাট উপজেলা ইউএইচএফপি  ডাঃ শহিদুল্লাহ্ জানান, গত ১সপ্তাহে ঠান্ডা জনিত প্রায় শতাধিক রোগীর চিকিৎসা নিয়েছে।

আবহাওয়া কৃষি গবেষণাগারের আবহাওয়াবিদ সুমন কুমার সরকার জানান, বৃস্পতিবার রাজারহাটে সর্বনি¤œ ৬.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এব্যাপারে ১১জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম  জানান, চাহিদার তুলনায় সরকারীভাবে শীতের কাপড় অপ্রতুল। তাই জিও-এনজিও সহ সকল প্রতিষ্ঠানকে ছিন্নমুল মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার।#  
 

ট্যাগ: Banglanewspaper রাজারহাট সর্বনিন্ম তাপমাত্রা