banglanewspaper

রুমেল আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট):  শীত আসলেই মনে পড়ে শীতের নানা রকম মুখোরোচক পিঠার কথা। বর্তমানে শীতের জনপ্রিয় পিঠা ভাপা পিঠা। 

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হিমেল হাওয়ার প্রভাবে বেড়ে যায় শীতের তীব্রতা। শীতের শুরুতে গোধূলী বেলায় হালকা কুয়াশা নেমে আসতে না আসতেই  রাস্তার ধারে সব ধরনের পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে দেন মৌসুমী পিঠা বিক্রেতারা। 

ছোট্ট ভ্যান গাড়িতে থাকে কত ধরনের সরঞ্জাম, চালের আটা, গুড়, নারকোল আর ছোট্ট বাটি। ছোট্ট চুলায় মাটির পাতিলে পানি ভরে মুখ লেপে ছোট করে তার ওপর পাতলা কাপড়ের আস্তরণ দিয়ে বসে পড়ে পিঠার কারিগর। পাতলা কাপড়ে মুড়ে পাতিলের ওপর বসিয়ে আগুনের তাপে পানির বাষ্প উঠে তৈরি হয় ভাপা পিঠা। ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতকালীন পিঠার দোকান। আবার  শীতের  পিঠা বিক্রি করে সংসারের অভাব দুর করছেন অনেকে।

ফেঞ্চুগঞ্জের পূর্ব বাজারে প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করেন হেলাল মিয়া।সংসারের অভাব দূর করতে পিঠা বিক্রি করেন তিনি। পিঠা বিক্রি করে দৈনিক ২৫০-৩০০ টাকা আয় করেন হেলাল। বছরের অর্ধেক সময় বিভিন্ন কাজকর্ম করলে শীতকালে বিক্রি করেন পিঠা।  

সেখানে বমে পিঠা খাচ্ছিলেন তোফায়েল আহমদ ইমন। তিনি বলেন, ভাপা পিঠা বাড়িতে যাওয়া হয় না, তাই পাওয়া যায় না আগের মত পিঠার স্বাদ। তাই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েই খেতে হয় পিঠা। 

ফেঞ্চুগঞ্জের পূর্ব বাজার, থানার রোড পয়েন্ট, পশ্চিম বাজার সহ রাস্তার পাশে এই সব ছোট ছোট পিঠার দোকান গুলোতে তৈরী হচ্ছে পিঠা। ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, তেলের পিঠা (মালপুয়া) ইত্যাদি সাজানো রয়েছে দোকান গুলোতে। 

সেখানে দাড়িয়ে চিতই পিঠা খাচ্ছিলেন জামিল আহমদ। তিনি বলেন, বাসায় প্রতিদিন পিঠা তৈরী করা সম্ভব না । তাই পিঠা ব্যবসায়ীরা যেমন মানুষকে তৃপ্তি দিচ্ছে পিঠা খাইয়ে তেমনি নিজেদের কর্মসংস্থান এরও সুযোগ হচ্ছে এই ব্যবসা থেকে।

শীত আসলেই মনে হয়ে যায় শীতের পিঠার কথা। আর এই শীতের পিঠার ভিন্ন স্বাদ সবার জীবনে এনে দেয় নতুন মাত্রা। এই শীতের পিঠা নিয়ে বাংলা সাহিত্যে কত গান-কবিতা রচিত হয়েছে। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর সময় মেলা ভার। 

এজন্য বর্তমানে বাইরের দোকানের পিঠাই একমাত্র ভরসা। আর সে কারনেই বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতকালীন পিঠার দোকান।

 

 

ট্যাগ: Banglanewspaper ফেঞ্চুগঞ্জ জমজমাট ব্যবসা