banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান (রবিন): মাগুরায় বিভিন্ন বিলে জন্মানো ফুলশোলা দিয়ে নানা বাহারী উপকরন তৈরী করে ৪ পুরুষের বেশী সময়  ধরে জীবীকা নির্বাহ করছে ১০ গ্রামের শতাধিক পরিবার। তাদের তৈরী এই উপকরন দেশে বিদেশে কুড়িয়েছে সুনাম। পাশাপাশি পরিবারে এনেছে সচ্ছলতা।

জেলার  শালিখা উপজেলার শতপাড়া, সান্দরা, শ্র্র্রীপুর উপজেলাধীন বরালদাহ, সদর উপজেলার দরিমাগুরা, বাটাজোড়সহ ১০ টি গ্রামে ফুলশোলার বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন সামগ্রী তৈরী করে করে জীবিকা অর্জন করছেন অন্তত ১০০ টি পরিবার। এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত কাারুশিল্পীরা এটিকে পেশা হিসাবে আকড়ে ধরে পার করেছেন কমপক্ষে ৪ পুরুষ।

বর্তমানে হয়েছের বানিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফল। প্রতিটি পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। ফুলশোলা দিয়ে বিয়ের ফুল, পূজার ফুল, বিয়ের টোপর, হাতপাখা, কদমফুল, গোলাপফুল, বানর, কবুতর, কাকাতুয়া ও বিভিন্ন রকম খেলনা তৈরীই তাদের মুল কাজ। 

শোলা শিল্পিরা জানান, বৈশাখ মাসের শেষের দিকের বর্ষণে ফুল শোলার বীজ বপন করা হয় অথবা এমনিতেই ডোবা জমি কিংবা ধানি জমিতে চারা গজাতে থাকে । যা ৩ মাসের মধ্যেই বড় হয়ে যায়। বিল থেকে শোলাগুলো উঠিয়ে এনে প্রথমে শোকানো হয়। তারপর ছুরি দ্বারা শুকনো শোলাগুলো কাটা  হয়। পরে কাটা অংশ দিয়ে কাগজের আকারে সাদা রোল তেরী করে তা দিয়ে তৈরী করা হয় নানা সরঞ্জাম।

শালিখার শতপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মংকর মালাকাসহ ৬টি পরিবারের পুরুষ ,নারী ও ছেলে মেয়েরা নিজেদের পুরোপুরি সম্পৃক্ত করেছেন শোলা শিল্পের সাথে।

প্রবীন ফুলশোলা শিল্পী-শংকর মালাকার মিতালী মালাকার সহ আরো অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা পূর্বপুরুষদের কাছেই শিখেছেন শোলাশিল্পের এই কারুকাজ। শংকর মালাকারের কাছ থেকে এই কাজ শিখেছেন তার স্ত্রীপুত্র কন্যাসহ অন্যরা। এমনকি বংশানুক্রমে এই কাজ  শিখে পড়াশোনার পাশাপাশি মা-বাবাকে সাহায্য করছে ওই পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীরা। সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে শিল্পটি আরো বড় করা যেত বলে জানালেন তারা।

ফুল শোলার তৈরি উপকরণ মাগুরার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত লক্ষীপূজা, কালিপূজা, মনসাপূজায় চাহিদামাফিক সরবরাহ করা হয়। এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ নিউমার্কেট, শ্যাওড়াপাড়া, জুরাইনে এ সব উপকরণ সরবরাহ করেন। অংশ নেন বাংলা একাডেমির বৈশাখীমেলা, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও ফাউন্ডেশেনের মাস ব্যাপী মেলা,বিসিক মেলাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মেলায়।

জেলা বিসিক কর্মকর্ত অনোয়ারল সিদ্দিকী বলেন -‘ মাগুরার শালিখা, শ্রীপুরের রাধানগরসহ জেলার ১০ গ্রামে এ শিল্পটি আকড়ে জীবীকা নির্বাহ করছে অনেকে। একটি একটি ঐতিহ্যবহি শিল্প। তারা সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি।

ট্যাগ: Banglanewspaper ফুলশোলা শিল্প মাগুরা