banglanewspaper

গতকাল থেকে আমার ফেসবুকের টাইম লাইনে বারবারই ভেসে উঠছিল মডেল অভিনেত্রী ফারিয়া শাহরিনের একটা ইন্টারভিউ ও এ সংক্রান্ত খবর। আমি বিষয়টি জানার চেষ্টা করলাম। যতটুকু সম্ভব মনোযোগ দিয়ে ইন্টারভিউটি পড়লাম। পড়ে ঠিক বুঝতে পারলাম না মিডিয়ার মানুষদের প্রতি ফারিয়ার এতো আক্রোশের কী কারন।

কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেছেন, ‌‌’আমি কাজ করব। কাজের বাইরে কারও সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার কোনো দরকার দেখি না। কাজ শেষ হবে, সম্মানী দিয়ে দেবে। কিন্তু প্রযোজক চান, কাজ শেষে তাঁর সঙ্গে ঘুরব, কফি খাব, একটু হাহা হিহি করব, সব সময় যোগাযোগ রাখব। এসব আমি পারি না।’

এই প্রস্তাব প্রসঙ্গে ফারিয়া আরো বলেছেন, ‘প্রযোজকের কাছ থেকে পাই। তাঁরা ভাবেন, তাঁরা টাকা দিচ্ছেন, নায়িকা কেন তাঁদের সঙ্গে ঘুরবে না! নায়িকাকে বলেন, চলো ক্লাবে যাই, চলো ঘুরি। আমার কথা হলো, কাজ করতে আসছি। কাজ শেষে সম্মানী দিয়ে দেবেন, শেষ। এখন দেখি, যোগাযোগ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। অনেকেই দেখি পরিচালক-প্রযোজকদের গিফট দেয়, খাওয়ায়। বাসায় দাওয়াত দেয়। আমি এসব করতে পারি না। আর এসব করি না বলেই হয়তো আমাকে ঘোরায়, সম্মানী ঠিকমতো দেয় না। তখন মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।’ তবে ফারিয়া কারো নাম বলতে চাননি। তিনি বলেছেন, ‘কারও নাম বলতে চাই না। সমস্যাগুলো বলেছি, এটাই যথেষ্ট। কাদের নিয়ে বলছি, যাঁরা সংশ্লিষ্ট, তাঁরা ঠিকই বুঝতে পারবেন। আর মিডিয়ায় আমার অনেক শত্রু। দেখা যাবে, কোনো দিন আমাকে মেরে চলে যাবে। কাউকে নিয়ে কথা বলা খুব বিরক্তিকর আর আতঙ্কের।’

ছোটোপর্দার মতো বড়পর্দা প্রসঙ্গেও ফারিয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। বলেছেন, ‘প্রস্তাব তো অনেক পেয়েছি। কিন্তু যখন পরিচালক বলেন, প্রযোজকের সঙ্গে বসতে হবে, তাঁর সঙ্গে ডিনার করতে হবে। নাটকের সেটে অনেক সিনেমার পরিচালক দিনের পর দিন এসে বসে থাকতেন। কেউ কেউ ফোন করেছেন। ‘এই তো প্রেম’ সিনেমার জন্য নির্মাতা সোহেল আরমান অনেক অনুরোধ করেছেন। ‘আমি তোমার মনের ভেতর একবার ঘুরে আসতে চাই’ গানটা কতবার যে আমাকে শুনিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কাজটা করতে পারিনি। বিন্দু করেছে।’ তিনি শাকিব খান প্রসঙ্গে বলেছেন ‘আমি শুনেছি এই ছবিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করতে হবে। তখন আমাকে অনেকেই বলেছেন, শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমায় কাজ করতে গেলে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। তাই করিনি।’

এখন প্রশ্ন হলো এই কাস্টিং কাউচ সারা পৃথিবীজুড়েই আছে। বাংলাদেশেও না থাকার কথা নয়। কিন্তু ফারিয়ার আক্ষেপ ঠিক কাদের উপর, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিলেই পারতেন! নাকি সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বারবার এমন প্রসঙ্গে মুখ খুলেন ফারিয়া?

এর আগে একবার মালয়েশিয়া থাকাকালীন সময়ে ফারিয়া ফেসবুকে লিখেছিলেন ‘আমরা মেয়েরা সবসময় মেয়েই থাকব, আমরা কোনোদিন পুরুষের সমান হতে পারব না। যতই নারী আন্দোলন, হিউম্যান রাইটস, ওমেন রাইটস, নারী পুরুষ সমান বুলি ঝারি না কেন আমরা কোনোদিন অনের সমান হতে পারব না। কারণ আমরা শারীরিকভাবে দুর্বল। কষ্ট হয় কথাগুলো বলতে।

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যখন কোনো আরব গাড়ি থেকে মাথা বের করে নোংরাভাবে শিষ দিয়ে ইশারা করে ডাকে, তখন আমার মতো রগ চটা ফারিয়াও মাথা নিচু করে চলে যায়। ইচ্ছা করে গলা টিপে চোখ খুলে টেনে বের করে ফেলি, কিন্তু একটা টু শব্দ করারও সাহস হয় না, ভয় হয় যদি ধরে নিয়ে যায়! কমপ্লেইন দেবো কাকে? ঐ পুলিশও তো গাড়ি থামিয়ে ইশারা করে।’

বলা বাহুল্য এসব নিয়ে তখনও অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা হয়। সর্বশেষ এভ্রিল প্রসঙ্গেও সবরব হয়েছিলেন ফারিয়া। বলেছিলেন, ‘বিয়ের ছবি, বাসরের ছবি, চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরার ছবি, কাবিনের ছবি বের হওয়ার পরও বলে আমি ভার্জিন। এমনকি নামও জরিনা থেকে হয়ে যায় জ্যাকলিন। বোরকা থেকে বিকিনি। আমারাই দেখি অনেক পিছিয়ে আছি। একটা বিয়ে করারও দুর্ভাগ্য হলো না। নাম বদলে ফেলা তো অনেক দূরের কথা।’

এ প্রসঙ্গে ফারিয়া আরো লিখেন, যা দেখলাম গ্রামের মেয়ে গুলাই বেশি স্মার্ট। আগে দুই-তিনটা বিয়ে করে কী সুন্দর মুখের উপর বলে দেয় আমি বিয়ে করি নাই। কাবিন, ভিডিও, ছবি থাকার পরও একবার মনে হয় না, সব কিছু সবাই জেনে যাবে একদিন। জেনে যাওয়ার পরও দেখি খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে আসে এসব মিথ্যা! অনেক হাসি পেল। অবশ্য এদের দোষ দিয়ে লাভ কী? আমাদের দেশের নায়িকারাই তো এদের আইডল। বোঝাই যাচ্ছে ক্যারিয়ারে খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে বারবারই আলোচনায় থাকতে চেয়েছেন ফারিয়া। আগ্রহবশত ফারিয়ার ফেসবুক ঘাঁটলাম। অসংখ্য পোস্ট, অসংখ্য ছবি। অধিকাংশ ছবিই যথেষ্ট আবেদনময়। কী আবেদন সেটা নারী হিসেবে আমি যতটা না ভালো বলতে পারবো তার চেয়ে বেশি বোধ হয় পুরুষরাই ভালো বলতে পারবে। ছবির নিচে এমন সব কমেন্ট যা আমি লিখতে পারবো না। এখানে স্ন্যাপশট জুড়ে দিলাম। ছবি আর স্ন্যাপশট দেখার পর পাঠকই বিবেচনা করুক।

আলোচিত সেই ইন্টারভিউতে ফারিয়া বলেছেন, ‘পুরোপুরি বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় কাজ করতে ডাকে। অর্ধেক কাপড় পরে নাচলে মা-বাবা বাসা থেকে বের করে দেবেন। একটা রোমান্টিক গানে শাড়িও কিন্তু অন্য রকম আবেদন তৈরি করতে পারে।’
কিন্তু ফারিয়ার ফেসবুকে অসংখ্য ছবি পাওয়া গেল অর্ধেক কাপড়ের। অশ্লীল ইংগিতপূর্ণ।
ফারিয়ার মুখের কথা আর তার ফেসবুক মিলে না। তাকে সমর্থন করে না।

আমার ভুলও হতে পারে। কিন্তু ভুল করে হলেও আমার কেন যেন মনে হচ্ছে প্রচারপাগল ফারিয়া আসলে আলোচনায় থাকার জন্যই বারবার এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। প্রতিবাদ যদি করতেই হয়, তাহলে প্রমাণসহ স্পেসিফিকলি করুন। এভাবে ধোঁয়াশা তৈরির মানে কী? আরেকটা কথা সবাই কী কেবল ফারিয়াকেই পেল? সবার আগে একটা কথা জেনে রাখা উচিত। পরিবর্তনটা আগে নিজের মধ্যে আনতে হবে। তারপর বাকী সব। অনেক লিখে ফেললাম জানি না রঙধনু এটা ছাপবে কি না। তবেু লিখলাম। শেষতক ফারিয়ার প্রতি একটা প্রশ্ন ছুঁড়তে চাই। প্রিয় ফারিয়া, আপনি কী নিশ্চিত আপনি নিজে দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা? সূত্রঃ রঙধনু।

ট্যাগ: Banglanewspaper দুধ ফেসবুক