banglanewspaper

কক্সবাজা প্রতিনিধি: কক্সবাজার শহরে বাবা-মা ও দুই কন্যা শিশুসন্তানসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বাবার লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করলেও মাসহ সন্তানদের মৃতদেহ খাটের ওপর শোয়া অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্ত্রী ও সন্তানদের বিষজাতীয় কোনো কিছু খাওয়ানোর পর গৃহকর্তা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কের শিয়াইল্ল্যা পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়া।

নিহতরা হলেন, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কসংলগ্ন শিয়াইল্ল্যা পাহাড় এলাকার মৃত ননী গোপাল চৌধুরীর ছেলে সুমন চৌধুরী (৩৩), তার স্ত্রী বেবী চৌধুরী (২৮) এবং তাদের মেয়ে অর্পিতা চৌধুরী (৫) ও জ্যোতিকা চৌধুরী (৩)।

ওসি রণজিত বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কের স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় একটি বাসায় ভেতর থেকে বন্ধ থাকা অবস্থায় দরজা ভেঙে দুই শিশুসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা বাবা-মা ও সন্তান।

পুলিশ বাসার দরজা ভাঙার পর ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষের খাটের ওপর শোয়া অবস্থায় স্ত্রী বেবী এবং দুই কন্যাশিশুর মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে আলাদা একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গৃহকর্তা সুমন চৌধুরীকে।  তবে স্ত্রী বেবী ও শিশুসন্তানদের মৃতদেহ খাটের ওপর শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান ওসি।

নিহতদের প্রতিবেশী গোপাল দাশ বলেন, দুপুরে খাবার খেয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তাদের সবাইকে একসঙ্গে ঘুমাতে দেখেছি। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও ডাকাডাকি করার পর তাদের কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর রাজবিহারী দাশকে খবর দেওয়া হয়। কাউন্সিলর রাজবিহারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজেও অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করেন। তারপরও কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নিহতদের আরেক প্রতিবেশী দুলাল দাশ বলেন, নিহত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনোদিন মনোমালিন্য বা ঝগড়াঝাটি দেখিনি। হাসি-খুশিতেই দেখেছি তাদের। বুধবার দুপুরেও ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে সুমনকে ভাত খাওয়াতে দেখেছি। সব ভাইয়েরা একই সীমানায় আলাদা বাসায় থাকলেও সুসম্পর্ক ছিল। এ ধরনের মৃত্যুকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের বিষজাতীয় কোনো দ্রব্য খাওয়ানোর পর গৃহকর্তা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও পুলিশ তদন্ত করে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

লাশ চারটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে জানান ওসি রণজিত।

ট্যাগ: Banglanewspaper কক্সবাজার মরদেহ শিশু ওসি