banglanewspaper

হরতাল ও অবরোধে নাশকতাকারীদের প্রতিরোধে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রয়োজেনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে। এছাড়া বিজিবির কাছে আর কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির সদর দফতরে এক সংবাদ বিফ্রিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বিজিবি সদস্যরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য। যদি আইন শঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালনের সময় বিজিবি সদস্যরা আক্রান্ত হয় তখন জীবন বাঁচানো তাদের অধিকার। ওই সময় প্রয়োজন হলে অস্ত্র ব্যবহার করবে।’

‘পাঁচজন নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য একজন হুমকিদাতাকে ছাড় দেয়া হবে না।’ বলেও ডিজি মন্তব্য করেন।

হরতাল ও অবরোধে বিজিবির দায়িত্ব পালন করার কারণে সীমান্তে দায়িত্বে পালনে সমস্যা হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের রিজার্ভ ফোর্স হরতাল ও অবরোধে দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত থেকে কোনো সদস্য প্রত্যাহার করা হয়নি। যদিও এতে আমাদের সদস্যদের একটু কষ্ট হচ্ছে। তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তারপরও দেশ ও জাতির স্বার্থে তারা কাজ করে যাচ্ছে।’

ডিজি বলেন, ‘সিভিল প্রশাসন যতদিন চাইবে, ততদিন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে।

হরতাল ও অবরোধে দেশের ১৬-১৭টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবির সদস্যরা হরতাল ও অবরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করছে। বিভিন্ন জেলায় ৭০ থেকে ৮০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

পণ্য পরিবহন ও যাত্রীদের সড়কপথে যাতায়াতে বিজিবি পুলিশ ও র‌্যাবকে সহযোগিতা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) রাতে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৫ হাজার পরিবহন চলাচলে বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক ভারত ও মায়মানমারের সীমান্ত বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে জানিয়ে বলেন, ‘চোরাচালানসহ সীমান্ত অপরাধ রোধে বিজিবির ভারত ও মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ৩৬১ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে ১৯৮ কিলোমিটার এলাকায় বিওপি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে ওই এলাকায় টহল দেয়া যায় না। এ কারণে ওই অঞ্চল অরক্ষিত রয়েছে। এজন্য ওই অঞ্চলগুলোতে বিওপি স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়াও টহলের জন্য সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’

অরক্ষিত অঞ্চলের চোরাচালান ও অপরাধ রোধে বিজিবির এয়ার উইং চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান। ওই সব অঞ্চলে টহলের জন্য এয়ার উইংয়ে ৪টি হেলিকপ্টার যোগ করা হবে। এরমধ্যে দুইটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক টহল দিবে এবং ২টি স্ট্যান্ডবাই থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

বিফ্রিংয়ে তিনি বিজিবির গত এক বছরের সাফল্য তুলে ধরেন।

ট্যাগ: