banglanewspaper

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আদমদীঘি ও সান্তাহারে ‘দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’ নামে জুয়ার ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

পাশাপাশি আয়োজকরা প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এ জুয়া বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়ার পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলায় ২০১৬ইং সালের ৩০ ডিসেম্বর আয়োজিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় শুরু হওয়া ‘দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’ এর আয়োজন করা হয়। তখন ডিসিএস নামের একটি ডিসের সিডি চ্যানেলে এ লটারি খেলাটি প্রচার করায় জনগণের মাঝে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়।

এতে জনগণের মাঝে ব্যাপক হারে সৃষ্ট বিশ্বাসকে পুঁজি করে ‘দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’ নামে এই জুয়াটি চালিয়ে গত বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে এ লটারির আয়োজকরা। তারা প্রচুর পরিমানে লাভবান হওয়ায় ২০১৭ইং সালে আয়োজিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় আবারো যোগদেয় ‘দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’ নামের এই জুয়ার ফাঁদটি।

বিগত দিনে এই ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হওয়ায় এবার জনগন অনেকটা সচেতন হয়েছে। ফলে নওগাঁতে শুরু হওয়া এই জুয়াকে প্রতিহত করেছে জনগন। নওগাঁর শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় ঠাঁই না পাওয়ায় যোগদেয় রাণীনগর উপজেলার বেলঘরিয়া আনন্দ মেলায়।

বর্তমানে এ মেলায় ‘দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’ নামের জুয়াটি স্থান পেয়েছে। মানুষকে ফাঁদে ফেলতে শুরু থেকেই দিচ্ছে আকর্ষনীয় বিভিন্ন ধরনের পুরষ্কার। এজন্য লটারি নামক এই জুয়ার ফাঁদ থেকে বাদ পরছেনা শিশু,কিশোর,যুবক,যুবতীসহ বৃদ্ধরাও। সান্তাহার পৌর শহরে ও আদমদীঘিতে সকাল হলেই দেখা মিলে লটারির গাড়ি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন প্রতিদিন।

টিকিট বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়োজকরা পুরস্কারের সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার  মোটরসাইকেল, পাওয়ার টিলার, ষাড় গরু, এলইডি, ফ্রিজ, সোনার গহনা, মোবাইল ফোনসহ ৭১টি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়।

লোভনীয় পুরস্কার পেতে এদিন সকাল থেকে সান্তাহার ও আদমদীঘির বিভিন্ন স্থানে জনগণ টিকিট সংগ্রহ করতে হুমকি খেয়ে পড়েন। কেউ কেউ ১০০টি টিকিট সংগ্রহ করেন বলেও জানা গেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সান্তাহার জংশন শহর, আদমদীঘি উপজেলা সদর, ছাতিয়ানগ্রাম বাজার, মুরইল ও নসরতপুর বাজার, কুন্দুগ্রাম ও চাঁপাপুর বাজারসহ বিভিন্ন স্পটে এ লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু এই উপজেলায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টিকিট। প্রতিদিন শতাধিক মিনি ট্রাক, সিএনজি অটো রিকশা, চার্জারভ্যান ও অটোবাইক দিয়ে প্রতিটি ২০ টাকা মূল্যে টিকিট বিক্রি করছে মাইক দিয়ে হেঁকে।

লটারী নামক এই জুয়ারটি বন্ধ হলে সাধারন মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে রক্ষা পাবে। তাছাড়া কেউ কেউ প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করবে বলেও জানা গেছে। বর্তমানে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ট্যাগ: Banglanewspaper সান্তাহার লটারি সর্বশান্ত