banglanewspaper

ভোরের বিন্দু বিন্দু শিশির তখন হলুদ ফুলের শরীরজুড়ে। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তার মতো ঝিকমিকে শিশির কণা গড়িয়ে নামে। সকালের রোদে ঝলমল করতে থাকে মাঠভর্তি হলুদ সরিষা ফুল। যতদূর চোখ যায় কেবল হলুদ আর হলুদ। যেন সবুজ মাঠজুড়ে আগুন লেগেছে! ধীরে ধীরে বেলা গড়িয়ে নামে বিকেল। বিকেলের ‘কন্যাসুন্দর’ আলোয় হলুদ ফুলগুলোর রূপ যেন আরেকটু খোলে। মিষ্টি বাতাসে দুলে দুলে ওঠে ফুলের ডগা। ফিরে আসতে শুরু করে শিশিরের দল। জমিয়ে বসে ফুলে।  

ঢাকার কাছের সরিষা ক্ষেত দেখতে যেতে পারেন কেরাণিগঞ্জের রোহিতপুর এলাকায়। ঢাকার বাবুবাজারে বুড়িগঙ্গা সেতু পেরিয়ে সামনে দোহারগামী সড়ক ধরে যেতে হবে রোহিতপুর। গুলিস্তান এলাকা থেকে রোহিতপুরে যাওয়ার লেগুনা সার্ভিস আছে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক লাগোয়া সরিষা ফুলের আরেক রাজ্য মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার সাতগাঁও এলাকা। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর সোনারং এলাকায়ও আছে প্রচুর সরিষা ক্ষেত। ঢাকার কাছে সরিষা ক্ষেত দেখতে আরও ঢুঁ মারতে পারেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যের বাজার কিংবা বারদী এলাকায়। ঢাকার গুলিস্তানে মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের প্রবেশমুখ থেকে বারদী যাওয়ার বাস ছাড়ে। এছাড়া, ঢাকা শহরের পশ্চিম পাশে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলে পরিপূর্ণ। যে কোনো ছুটির দিন সকালে সময় বের করে বেড়িয়ে পড়তে পারেন।

সরিষা ফুলের ভিন্ন এক জগতের নাম যশোরের অভয়নগর। অভয়নগর বাজার থেকে ভৈরব নদী পার হয়ে ওপারে গেলে পাওয়া যাবে সরিষার গালিচা।

অভয়নগর ও আশপাশের শিমুলিয়া, জয়দিয়া, রুন্দিয়া, মধুরগতি প্রভৃতি এলাকায় গেলে পাওয়া যাবে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত।

ঢাকা থেকে খুলনাগামী যে কোনো বাসে চড়ে অভয়নগরে নামা যায়। তবে অভয়নগরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা নেই। সারাদিন বেড়িয়ে রাতে এসে থাকতে হবে যশোর কিংবা খুলনা শহরে।

প্রয়োজনীয় তথ্য

কাছে কিংবা দূরে, যে দিকেই বেড়াতে যান না কেনো সরিষার রাজ্যে ভ্রমণে যেতে নিজস্ব কিংবা ভাড়া করা কোনো গাড়ি নেওয়া উচিৎ। খরচ কমাতে কয়েকজন মিলে একটি গাড়ি ভাড়া করে নিন। তাহলে ইচ্ছেমতো ভালোলাগা যে কোনো জায়গাতেই থেমে যেতে পারবেন।

সরিষা ক্ষেতে ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় খুব সকাল কিংবা বিকাল।

আপনার কোনও কাজে সরিষা ক্ষেত যেন নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। অনেকেই ছবি তোলার জন্য সরিষা ফুল মাড়িয়ে নষ্ট করেন।

ট্যাগ: Banglanewspaper ঢাকা সরিষা ফুল