banglanewspaper

আগামী ৩১ জানুয়ারি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। একই সঙ্গে পূর্ণগ্রাস ও চন্দ্রগ্রহণ একটি বিরল ঘটনা। শেষবার এমনটা ঘটেছিল ১৫২ বছর আগে ১৮৬৬ সালে। প্রায় দেড়শ বছর পর আগামী বুধবার আবারও এরকম একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী।

সাধারণত আমরা প্রতি মাসে একটি পূর্ণিমা দেখতে পাই, কিন্তু কখনও কখনও একই মাসে দু’টি পূর্ণিমা ঘটে থাকে। মাসের এই দ্বিতীয় পূর্ণিমাটিই হচ্ছে ব্লু মুন। চাঁদ পৃথিবীর সবথেকে কাছে চলে আসার অবস্থাকে সুপারমুন আখ্যা দিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের এই নিকটতম অবস্থানকে অনুভূ বা পেরিজি বলা হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর খুব কাছে অবস্থান করে তখন চাঁদকে পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় আর উজ্জ্বল দেখায়। পূর্ণ গোলাকার চাঁদের এই অবস্থাকে সুপারমুন বলা হয়।

আর পৃথিবী যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করে। পৃথিবী থেকে তাকালে চাঁদকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য মনে হয়। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।

এই তিনটি মহাজাগতিক ঘটনা ৩১ জানুয়ারি একইসঙ্গে ঘটতে যাচ্ছে যা অপরিচিত না হলেও বিরল।

চন্দ্রগ্রহণের সময় :

ঢাকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁদ দিগন্তের উপরে উঠবে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মধ্যবর্তী অংশ ৭টা ২৯শ মিনিটে সংঘটিত হবে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ১ ঘণ্টা ১৬ মিনিট স্থায়ী হবে। রাত ১০টা ৮ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণের উপচ্ছায়া পর্যায় শেষ হবে।

কীভাবে দেখবেন চন্দ্রগ্রহণ :

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলেছে। এজন্য দুটি পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের আযোজন করেছে তারা। ক্যাম্প দুটির একটি হচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর মানমন্দির। অন্যটি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, কলাপাড়া, পটুয়াখালী।

এছাড়া চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র নানা প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মান্ডায় অবস্থিত গ্রিন মডেল টাউনে। এই ক্যাম্প থেকে ছবি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ঢাকার বাইরে রাজশাহীর রুয়েটে, বরিশালে, পঞ্চগড়ে, ঝিনাইদহে জেলায় ও অনুসন্ধিৎসু চক্রের উদ্যোগে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের ব্যবস্থা করবে।

আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে ক্যাম্প শুরু সন্ধ্যা ৫টা ৪৮মিনিট থেকে। গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অনুসন্ধিৎসু চক্রের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মো. শাহজাহান মৃধা জানান, সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর হলেও চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা ক্ষতিকর নয়। চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ আবশ্যক নয়, তবে পরিষ্কারভাবে দেখতে সেগুলোর ব্যবহার করা যেতে পারে।

ট্যাগ: Banglanewspaper সুপারমুন চন্দ্রগ্রহণ