banglanewspaper

শেখ রুবেল, ভূঞাপুর, (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : বাংলাদেশের নারীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম সালমা খাতুন। যিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী ট্রেন চালক। হয়তো কবি সালমা খাতুনের মতো নারীদের জন্যই যথার্থ বলছেন,

'বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর।

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,

অর্ধেক তার নর।’

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এ কবিতা যেন তার জীবনের জীবনগাঁথা। 

২০০৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সহকারী চালক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রথম নারী হিসেবে ট্রেন চালনা পেশায় আসেন। কৃষক বাবা বেলায়েত হোসেন ও গৃহিনী মা তাহেরা খাতুনের ৫ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সালমা খাতুনের জন্ম টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে ১৯৮৩ সালের ১লা জুন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত সালমা খাতুনের স্বামী জজকোর্টে কাজ করেন।

নতুনের প্রতি সবারই টান ও আগ্রহ থাকে। ইচ্ছে থাকে অন্যদের চাইতে একদম অন্যরকম কিছু করে দেখানোর। সালমা খাতুনের শৈশবটাও কেটেছে এমন অন্যরকম কিছু করার ভাবনায়। কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশের প্রথম নারী ট্রেন চালক? এটা হয়তো কোনদিন ভাবেননি সালমা খাতুন।

সালমা খাতুন এর সঙ্গে আলাপ কালে তিনি তুলে ধরেন তার শৈশবের নানান কথা। বাংলাদেশে প্রথম নারী ট্রেন চালক হিসেবে সালমা খাতুন বলেন, অনুভূতিটা অসাধারণ। তবে আমি সবসময়ই চাইতাম ও চেষ্টা করতাম ভালো কিছু করে দেখাতে। সেই চেষ্টায় আল্লাহ হয়তো আমাকে প্রতিদান স্বরূপ স্বীকৃতি দিয়েছে। ভালো লেগেছে। ইচ্ছে ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার। তবে ট্রেন চালাবো সেই ইচ্ছে ছিল না। রেলে জব সার্কুলার আবেদন করি। সে লিখিত আর
ভাইভাতে উত্তীর্ণ হলাম। এরপর চাকরিটা পেয়ে গেলাম।

তিনি আরো বলেন, ট্রেনিং করতে গেলে সবাই দেখতে আসতো আমাকে। দেখত যে দেশের প্রথম নারী যে ট্রেন চালাচ্ছে। ভালো লাগতো তখন। আমার পরিবার আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। প্রথমে আমার ভাইয়েরা আমাকে সাহায্য করেছে। এখন আমার স্বামীও সাহায্য করে।

পেশাগত জীবন নিয়ে সালমা বলেন, পেশাগত জীবনে ট্রেন নিয়ে মজার কোনো অভিজ্ঞতা আছে। ছোট ছোট ব্যাপারগুলোতে সবসময়ই মজা পাই। এই যেমন অনেকে দৌড়ে আসে সেলফি তুলতে চায়। মজা লাগে ও নিজেকে উপভোগ করি অন্যরকম।

পড়াশোনা ও পেশা নিয়ে সালমা খাতুন বলেন, যখন এই পেশায় প্রবেশ করি তখন মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পড়েছি।  এরপর বিএসএস ডিগ্রি ও বিএড কোর্স সম্পন্ন করেছি। সর্বশেষ কবি কাজী নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজ থেকে ২০১৫ সালে মাস্টার্স শেষ করি।

আমি আমার চাকরিটা রীতিমতো উপভোগ করি ও অনেক  ভালো  লাগে। একবার আমার এক আত্মীয় বলছিল যে, আমার নাম তার বন্ধু বইয়ে পড়েছে।
শুনে খুব ভালো লেগেছে।

এই পেশায় যারা আসতে চান তাদেরকে বলবো, মনোবল নিয়ে তারপর আসুন। আর আমি চাই নারীরা এখানে আসুক। পুরুষ আর নারী সমানভাবে  এই
পেশাতেও হোক সেটাই চাই। 

ট্রেনে সালমা খাতুনের সূচনা হয় সহকারী লোকোমাস্টার হিসেবে এবং বর্তমান তিনি বাংলাদেশে রেলওয়েতে দেশের প্রথম নারী ট্রেন চালক। এখন বর্তমানে আরও অন্তত ১৫ জন নারী ট্রেন চালক থাকলেও এর সূচনা হয়েছিলো সালমা খাতুনের মাধ্যমেই।

নারীদের প্রতি সালমা খাতুনের আহবান প্রতিকুলতা আসবেই, তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না। পরিশ্রম ও চেষ্টা করলে সফলতা অনিবার্য।

ট্যাগ: Banglanewspaper ভূঞাপুর নারী ট্রেন চালক