banglanewspaper

ধু ধু বালুচর হলেও স্বপ্ন দেখছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। পানি সংকটে পড়বেন না তারা কারণ মমতা ব্যানার্জি আসছেন! পানির অভাব আর থাকবে না তিস্তা পাড়ে!

বারবার থেমে যাচ্ছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি। আর এ চুক্তি বাস্তবায়নে যতো দেরি হচ্ছে ততই হাহাকার বাড়ছে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের।

দিন দিন নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় গেল বছরের চেয়ে চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে সেচ দেওয়া জমির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৫শত হেক্টর কমিয়ে আনা হয়েছে।

এবার ২৮ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পানি প্রবাহ কম থাকায় চলতি মৌসুমের অর্ধেক জমিতে পানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সেচ মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজ ক্যানেলের মাধ্যমে শুধুমাত্র নীলফামারীর জেলার ডিমলা, জলঢাকা, নীলফামারী সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানি সরবরাহ টার্গেট করা হলেও পানি কম থাকায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

২১ জানুয়ারি তিস্তা সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়। কিন্তু দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলের সেচ ক্যানেলের সুবিধাভোগীরা পানির জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে, আপাতত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ এলাকায় ভারত তাদের গজলডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

নদী পাড়ের মানুষেরা জানান, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মৎসজীবীরা তাদের বাপ-দাদার পুরনো পেশা ছেড়ে শহরে গিয়ে হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল। ছোট ছোট খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। নৌকাগুলো তুলে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে রঙিন পালের নৌকাগুলো।

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজে ২১ জানুয়ারি থেকে সেচ দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু উজানের প্রবাহ দিন দিন কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে, তিস্তা ব্যারেজের কমান্ড এলাকায় সম্পূরক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি জানান, গত বছর সেচ নির্ভর রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় ৬৫ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সেখানে তিস্তার পানির অভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়েছিল মাত্র ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ফলে, ৩৭ হাজার ৫শত হেক্টর জমি সেচের আওতা থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেহেতু এখনও তিস্তার পানি চুক্তি হয়নি, সেক্ষেত্রে গত বছরের মতো চলতি বছরেও তিস্তার পানির প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে, এবার রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে (সেচ নির্ভর বোরো) আবাদের সেচ দেওয়ার জন্য ২৮ হাজার ৫শত হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ডালিয়ায় ১০ হাজার হেক্টর ও নীলফামারীতে ১৮ হাজার ৫ শত হেক্টর। এক্ষেত্রে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না দিনাজপুর জেলার ২০ হাজার ও রংপুর জেলার ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের উপবিভাগীয় প্রকৌশী সুরুতুজ্জামান জানান, জানুয়ারিতে গড়ে তিস্তা নদীতে ১ হাজারেরও বেশি কিউসেক পানি থাকলেও বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় সাড়ে তিনশ কিউসেকে। দিন দিন উজানের প্রবাহ কমছে।

পানির বর্তমান অবস্থানের কারণে তিস্তা সেচ ক্যানেল নির্ভর জমিগুলোতে সেচ প্রদানে হিমশিম খেতে হবে। তবে তিনি আশা করেন ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হবে।

তিস্তা পাড়ের মানুষ আশার আলো দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে।

খালিশা চাপানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, তিস্তা সেচ প্রকল্প নির্ভর কৃষকরা স্বপ্ন দেখছেন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে, কারণ মমতা ব্যানার্জির বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তা পানি সমস্যা দূর হবে অনেকটাই।

ট্যাগ: