banglanewspaper

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার। আর এই রায়ের প্রতি দেশবাসীর চোখ। সর্বত্রই আলোচনা, রায়ে কি হবে কি হবে না তা নিয়ে!

পুরান ঢাকার বকশিবাজারের কারা অধিদফতরের মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের এই রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। রায়ে বেগম খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন এবং সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৫ আইনজীবী নির্দোষ দাবি করে তার খালাস চেয়েছেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

রায় ঘোষণা নিয়ে বুধবার খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মিথ্যা মামলায় আমার কিছুই হবে না। আমি বেকসুর খালাস পাব। মাথা নত নয়, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমাকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে আদালতকে ব্যবহার করছে সরকার। হামলা-মামলা চালিয়ে কণ্ঠরোধ করছে সরকার। 

এদিকে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি অপরাজনীতি করছে। রায়ের সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। খালেদাকে নির্মূল করার বাসনা আমাদের নেই। 

রায়কে ঘিরে এরিমধ্যে প্রশাসন দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ও ঢাকামুখী মানুষের উপর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। 

এ রায়কে কেন্দ্র করে এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে জানানো হয়, ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রায়কে ঘিরে জ্বালাও পোড়াও হলে জনগণের জানমালের রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদ আসামি হিসাবে রয়েছেন। এর মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকি ও মমিনুর রহমান পলাতক। খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। আর সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন কারাগারে আছেন।

বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই নগরীর রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করে দুদক। মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত্ করা হয়েছে।

তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অরফানেজ মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি মামলা দায়ের করে দুদক। এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়। একই দিনে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ট্রাস্ট সংক্রান্ত এই দুইটি মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়। দণ্ডবিধির ৪০৯/ ১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠনের পরই শুরু হয় দুইটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ।

অভিযোগ গঠন থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে খালেদা জিয়া এই আদালতের কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান। ফলে পাঁচবার বিচারক পরিবর্তন করা হয়েছে। বিচার চলাকালে আদালতে হাজির না হওয়ায় দুইবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অবশ্য আদালতের ওই পরোয়ানা তামিল হয়নি একবারও। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা মঞ্জুর করেন বিচারক।
 

ট্যাগ: banglanewspaper রায় খালেদা দুর্নীতি