banglanewspaper

ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের মঞ্চে এসে পৌঁছান তিনি। সাথে সাথেই শুরু হলো জনমনে চাঞ্চল্য। সবার চোখ গিয়ে এক কেন্দ্রবিন্দুতে জমা হলো। চারিদিকে গগণ বিদারি স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।

মাদ্রাসা মাঠের দক্ষিণ পাশে দেয়ালের ওপারে বসা কয়েকশত মানুষ। হঠাৎই স্লোগান শুনে তাদের মধ্যেও সেই চাঞ্চল্যতা ছুঁয়ে গেলো। সবাই চেষ্টা করছেন দৌড়ে দেয়ালের কাছে যেতে। কিন্তু অপয়া দেয়াল বাধা হয়ে দাড়ালো। তাই পড়িমড়ি করে উঠে পড়লেন দেয়ালের উপরেই। কেউবা দেয়াল সংলগ্ন গাছের উপর উঠে গেলেন তরতর করে। সবই শুধু তাঁকে একনজর দেখার জন্য।

মাত্র ৮ বছর বয় সবুজের। এসেছেন নওগাঁ জেলার মান্দা থানা থেকে। তার মতোই শিশু রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকার তাদমীর ও স্বাধীন। বড়রা দেয়ালের উপর উঠে গেলেও ছোট হওয়ায় তারা তিনজন দেখতে পাচ্ছেনা তাঁকে। একবার এদিকে ছুটছেন, তো আরেকবার ওদিকে ছুটছেন। কিন্তু না কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। বেশ কিছুক্ষণ তাদের এই ব্যর্থ ছোটাছুটি দেখে অবশেষে স্থানীয় একজন তাদেরকে তুলে ধরলেন উচু করে। ঠিক তখনই তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠলো বিশাল মঞ্চ আর অনুষ্ঠানের মধ্যমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনজর দেখেই তাদের মুখে ফুটে উঠলো চওড়া হাসি।

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে এমনই উদ্দীপনা ছুঁয়ে গেছে সবার মাঝে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুবক-বৃদ্ধ কে নেই সমাবেশে? কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তিল ধারণের জায়গা নেই মাদ্রাসা মাঠে। তাইতো মাঠের পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলোতে যে যেখানে পেরেছেন বসে বা দাড়িয়ে একনজর দেখার চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনাকে।

নাটোর থেকে আসা ৭০ বছরের বৃদ্ধ সোবহান শেখ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে মন থেকে ভালোবাসি তাই প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে এসেছি। কিন্তু মাঠে জায়গা না পাওয়ায় আর দেখতে পাচ্ছিলাম না। পরে এখানে এসে বসেছি। অন্তত একনজর দেখতে তো পেলাম, এতেই আমি খুশি।’ সত্যিই তিনি হয়ত নাটোরে ফিরেছেন বুকভরা তৃপ্তি নিয়ে।

নগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকার ৪ বছরের শিশু রুকাইয়া। তার বাড়ি থেকেই খুব সহজেই শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। কিন্তু সে তার মায়ের কাছে জেদ করছে সে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যাবে। তাই তার মা-ও তাকে সাথে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, বাড়িতে থাকতেই চাচ্ছিলো না রুকাইয়া। খুব জিদ করছিলো। তাই প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য তাকে সাথে নিয়ে এসেছেন।

রাজশাহীর হেতেমখাঁ এলাকার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল আজিজ। ঠিকমতো হাটতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসায় জায়গা থেকে এসেছি। বাড়িতে থাকতে পারছিলাম না। আল্লাহ বাচিয়ে রাখলে আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়ী করবো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে পুরো নগরী জুড়েই ছিলো এমন উদ্দীপনা। কেউ আওয়ামী লীগের উপর ভালোবাসা থেকে, কেউ নিজ এলাকার প্রার্থীর জন্য, আবার কেউবা এসেছেন শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য। একনজর হলেও দেখতে পেয়ে তৃপ্তির হাসি নিয়েই ফিরেছেন নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে। আর শপথ করে গেছেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার জন্য।

ট্যাগ: Banglanewspaper একনজর দেখা