banglanewspaper

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : চোরাচালানের তিন কেজি সোনা ছিনতাইয়ের ১৯ মাস পর এবার গরু বিক্রির নয় লাখ টাকা ছিনতাই। আর এর মধ্যমনি হলেন একজন পুলিশ অফিসার। সাতক্ষীরায় বাড়ি হওয়ায় তাকে নিয়েই আলোচনা এখন ‘সাতক্ষীরার টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট’ হয়ে পড়েছে।

আলোচিত পুলিশ সদস্য আবদুর রউফ বিশ্বাস এএসআই (সহকারি উপ পরিদর্শক) পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা। তার বর্তমান কর্মস্থল খুলনার ডুমুরিয়া থানা। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার। 

আবদুর রউফ বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসাবে যেসব অপরাধে নিজেকে জড়িয়েছেন তার প্রতি ঘৃণা ছুড়ে দিচ্ছেন সাতক্ষীরার মানুষ। তারা বলেছেন আবদুর রউফ বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করেছেন। তিনি সাতক্ষীরাবাসীরও মুখে কালিমা লেপন করেছেন। 

উল্লেখ্য, আবদুর রউফ বিশ্বাস গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্যবসায়ীদের গরু বিক্রির ৯ লাখ টাকা ছিনতাই মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি ও তার অপর তিন সহযোগী কনস্টেবল নাদিম, ট্রাক চালক মনির সরদার ও তার সহযোগী রাজু ঘোষ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছয় লাখ টাকাও। 

এদিকে, অনুসন্ধানে আবদুর রউফের বিরুদ্ধে বেরিয়ে এসেছে আরেক কাহিনী। অবশ্য সে ঘটনায় তিনি আটক হয়েও পুলিশের একটি অসাধু চক্রের সহায়তার রক্ষা পেয়ে যান।  

পেছনের আলোচিত ঘটনাটি ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর তারিখের। যশোরের কেশবপুরের স্বর্ণ চোরাচালানি বিপ্লব চ্যাটার্জি তার স্বীকারোক্তিমতে তিন কেজি স্বর্ণ ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে সাতক্ষীরা আসছিলেন। তার কাছ থেকে সেই সোনা ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে এএসআই আবদুর রউফ ও তার সহকর্মী কনস্টেবল মারুফ তাকে কৌশলে নিয়ে আসেন তালা উপজেলার সেনেরগাতি বাজারে। এ সময় গ্রামবাসী তাদের গনপিটুনি  দিয়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশে সোপর্দ করে। আবদুর রউফ সে সময় ছিলেন ঝিনাইদহ জলার হরিনাকুন্ডু থানার এএসআই। ছুটিতে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় এসে এ ঘটনা ঘটান তিনি। অভিযোগ রয়েছে চোরাচালানি বিপ্লবের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তিন কেজি সোনা পুলিশ কর্মকর্তারা হজম করে দিয়ে রউফ ও মারুফকে তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেন। পরে বিপ্লবকে ২১১ পিস ইয়াবা  দিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আবদুর রউফ সে যাত্রা এভাবেই পার পেয়ে যান। 

পুলিশের এএসআই রউফের এই দুই ঘটনা সাতক্ষীরায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রউফের নিজ এলাকা তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, একজন পুলিশ সদস্য হিসাবে রউফ যা করেছেন তা ঘৃণ্য অপরাধ। আগের ঘটনা থেকেই তার শিক্ষা গ্রহন করা উচিত ছিল। আমি এর বিচার দাবি করি।  

জেলা কৃষক লীগ সভাপতি বিশ্বজিত সধিু বলেন, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমুর্তি নষ্ট করেছেন। তাকে যথাযথ শাস্তি পেতে হবে।

আবদুর রউফের সহোদর তালার বালিয়াদহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্ক্ষিক আবদুর রব পলাশ বলেন, ভাইয়ের ঘটনায় আমরা বিব্রতকর অবস্থায় আছি। বিয়ের পর থেকে তার সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।

পাটকেলঘাটা এলকার একজন শিক্ষক নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা  আইন শৃংখলা রক্ষা কববেন তারা যদি ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তাহলে আমরা কার কাছে যাবো। তিনি বলেন  পুলিশ সদস্য হিসাবে আবদুর রউফ যে অপরাধ করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। এতে সাতক্ষীরার মানুষের মাথা নিচু হয়ে গেছে। একজন চিহ্ণিত অপরাধীর চেয়েও বড় অপরাধ করেছেন তিনি। তার শাস্তি পাওয়া উচিত।  

ট্যাগ: banglanewspaper সাতক্ষীরা ছিনতাই