banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে পোষাইদ উত্তরপাড়ায় সনাতন ধার্মাবলম্বীদের একমাত্র পূণ্য স্নান খালটি কারখানার বর্জ্যে দূষণের কবলে পড়েছে। জানা যায়, দুর-দুরান্ত থেকে বছরে নির্দিষ্ট দুদিন এই খালে জড়ো হয় অন্তত ৪ হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু দূষণে পড়ায় খালটিতে এখন স্নান করতে আসা মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন স্নান ঘাট পরিদর্শন করে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তেলিহাটি ইউনিয়নের পোষাইদ উত্তরপাড়ার দুখলা নামক খালের একটি অংশে প্রতি বছর অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মের মানুষ পূণ্য স্নান করে থাকে। এখানে খালের গা ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে একটি মন্দির। চারদিকে সবুজের সমারোহে স্থানটি জেলার মানুষের কাছে গভীর ধর্মবিশ্বাসের সাথে জড়িয়ে আছে। 

স্থানীয়দের মতে এই ঘাটটি হিন্দুদের স্নান করার কারনে ‘স্নানঘাটা’ নামে পরিচিত হয়ে গেছে। শত বছরের বেশি বয়সী এই ঘাটটিতে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের দূরদুরান্ত থেকে পবিত্র জলে গা ভেজাতে আসেন ধর্মবিশ্বাসী মানুষজন। এমন স্পর্শকাতর একটি স্থান বর্তমানে কলকারখানার বর্জ্যে দূষণের শিকার। এর পানির রং আর স্বচ্ছ নেই। মাটিতে মিশে আছে কালো রঙের ক্যামিকেল।

এক সময় এই খালের পানিতে সেচ কাজ করা হতো। কিন্তু দূষণের পর কেউ আর তা জমিতে ব্যবহার করতে পারছেন না। ধর্মবিশ্বাস এতোটাই গাঢ় যে তাতে দূষণের বিষয়টি ভাবলে চলবে না-এমনটা বলছিলেন পূণ্য স্থানের জন্য অপেক্ষমান কয়েকজন। একই সাথে স্থানীয় সচেতন কয়েকজন জানিয়েছেন তাদের শঙ্কার কথা। যেখানে এই খালের পানি খাওয়ালে গবাদি পশু মরে যায় সেখানে একই পানিতে স্নান কতটা বিপদজনক হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা। 

পোষাইদ গ্রামের প্রান্ত বিশ্বাস জানান, তিনি তার দাদার কাছে শুনেছেন এখানে এক সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ আসতেন পুণ্য স্নান করতে। বর্তমানে এখানে আসা লোকজনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। শিল্পায়নের ফলে এর পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় মানুষ এখন অন্যত্র পুণ্য স্নানের জন্য চলে যাচ্ছেন। 

একই গ্রামের হাজেরা খাতুন জানান, বৃষ্টি না হলে এই খালের পানি কালো কুচকুচে হয়ে যায়। পানিতে নামলে শরীরে ঘা হয়ে যায়। স্থানীয় পর্বত চন্দ্র জানান, হাজারো ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের এমন স্পর্শকাতর স্থানটি দূষন মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। 

শাস্ত্র চন্দ্র বলেন, আমাদের এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটি যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারী কারখানার মালিক বাবুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি  অর্থগ্রহণের প্রস্তাব দেন।

এ সম্পর্কে আলি পেপার মিলের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে খালে বর্জ্য ফেলার কথা অস্বিকার কওে বলেন,কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ আছে ।

এ ব্যাপারে বরমী ইউপি চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, খাল দখল ও দূষণ বর্তমানে আমাদের ঐতিহ্যকে ধ্বংশ করে দিয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বাঁচাতে

এগুলোকে স্বরুপে ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়াও ঐখানে হিন্দুদের একটি উৎসব হয়। তাই ওই খালের প্রাণ বাঁচাতে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করি।
 

ট্যাগ: Banglanewspaper শ্রীপুর কারখানা বর্জ্য পূণ্য স্নান সনাতন ধর্মালম্বী