banglanewspaper

একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার মধ্যে তিনটি বদ-অভ্যাস রয়েছেঃ মিথ্যা বলা, চুরি করা ও মদ খাওয়া। আমি তিনটি বদ-অভ্যাসই ছেড়ে দিতে চাই। কিন্তু একসাথে তিনটি ছাড়তে পারছি না। আমাকে একটি একটি করে এগুলি পরিত্যাগ করার সুযোগ দিন এবং কোনটি আগে ত্যাগ করবো তা বলে দিন।

রাসূল(সাঃ) একটু চিন্তা করে বললেনঃ তুমি প্রথমে মিথ্যা বলার অভ্যাস ত্যাগ কর। আর এই ত্যাগ করার উপর বহাল আছ কিনা, তা জানানোর জন্য মাঝে মাঝে আমার কাছে আসে।

সে এতে রাজী হয়ে গেল এবং কোন অবস্থাতেই মিথ্যা বলবে না বলে দৃঢ় সংকল্প করলো।

রাত্রে সে অভ্যাসমত চুরি করতে বেরিয়ে পড়লো। কেননা এটা সে বাদ দেওয়ার ওয়াদা করেনি। কিন্তু কিছুদূর গেলেই তার মনে হলোঃ রাসূল (সাঃ) এর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি যদি চুরি করেছি কিনা জিজ্ঞেস করেন তা হলে তো মিথ্যা বলা যাবে না। কাজেই সত্য বলে স্বীকারোক্তি দিতে হবে। আর তাহলে রাসূল (সাঃ) এর দরবারে অপমানতো সহ্য করতেই হবে। উপরন্তু হাতটাও কাটা যাবে। অনেক ভেবে চিন্তে সে ফিরে এল। চুরি করতে যাওয়া হলো না।

এরপর সে মদ খাওয়ার জন্য গ্লাস হাতে নিয়ে তাতে মদ ঢাললো। কিন্তু মুখে দিতে গিয়ে আবার একই প্রশ্ন তার মনে উদিত হলো। রাসূল (সাঃ) এর দরবারে আজ হোক কাল হোক তাকে তো যেতেই হবে। তিনি যদি জিজ্ঞেস করেন, মদ খাওয়া চলছে কিনা, তাহলে কি জবাব দেব? মিথ্যা তো বলা যাবে না। আর সত্য বললে অপমান ও ৮০ ঘা বেত্রদন্ড। অতএব, মদও সে ছেড়ে দিল।

এভাবে মিথ্যা ছেড়ে দিয়ে সে একে এক সব কয়টি চারিত্রিক দোষ হতে মুক্তি পেল। রাসূল (সাঃ) সত্যই বলেছেনঃ মিথ্যা হলো সকল পাপের জননী।

শিক্ষাঃ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করার একটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত চমকপ্রদ কৌশল শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেই শিক্ষাটি এই যে, ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড ও চরিত্র যখন কারো অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তখন তাকে রাতারাতি শুধরে পবিত্র করা সম্ভব হয় না।

এজন্য ধীরে ধীরে ও পর্যায়ক্রমে চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। এতে সফলতা লাভ করা সহজ হবে। এ কথা ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন সঠিক, জাতির ক্ষেত্রেও তেমনি অভ্রান্ত।

ট্যাগ: Banglanewspaper সকল পাপ মিথ্যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)