banglanewspaper

সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জের ক’দিন আগেই দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কার সরকার। গত সপ্তাহের শেষ থেকেই ক্যান্ডিতে চলছিল অশান্তি। ওই এলাকা মূলত চা চাষের জন্য বিখ্যাত। অনেক বৌদ্ধ রয়েছেন সেই জায়গায়। ‌স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন উঠছে শান্ত বৌদ্ধ সমাজ কেন হিংস্র হয়ে উঠছে?

সিংহলি বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে ৩২টি বাড়ি, ৭৫টি দোকান এবং ১০টি ধর্মস্থানের। গত সপ্তাহে জনতার হাতে এক সিংহলির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হচ্ছিল পরিস্থিতি।

ক্যান্ডির থেলডেনিয়া এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সেনাবাহিনী এবং পুলিস কম্যান্ডো শান্তি ফেরাতে দ্রুত এলাকায় যায়। কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে তারা। জারি হয় কার্ফু। তার পরেই প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনা এবং মন্ত্রিসভা জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। গোটা ক্যান্ডি প্রদেশেই জারি রয়েছে কার্ফু।

মুসলিমদের ওপর হামলা রুখতে আরও সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। দাঙ্গা থামাতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হামলাকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ মসজিদ এবং মুসলিমদের দোকানে হামলা চালানো হচ্ছে। কারফিউ উপেক্ষা করে এসব হামলা চালানো হয় বলে খবর।

শুধু শ্রীলঙ্কা কেন, এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বৌদ্ধ সন্নাসীদের আক্রমণ, থাইল্যান্ডে মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের পক্ষ থেকে। স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন উঠছে যাঁরা অহিংস নীতিতে বিশ্বাস করত তাঁরা হঠাৎ হিংসার পথ বেছে নিল কেন?‌

এই বিষয়ে তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামার প্রতিক্রিয়া, ‘‌এই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা কোনওভাবে হৃদয়ে আঘাত পেয়েছেন’‌। কিন্তু মাইকেল জেরিসন, যিনি ইয়ংটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষার বিশেষজ্ঞ তিনি তা মানতে নারাজ। সম্প্রতি তিনি একটি বই লিখেছেন। নাম বৌদ্ধ ধর্ম ও হিংসা। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‌হিংসাকে তাঁরা ধর্মীয় যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চায়’‌।

কিন্তু বেশ কিছু কট্টরপন্থী বৌদ্ধ সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিমরা শ্রীলঙ্কার বহু এলাকায় ধর্মান্তরণ করাচ্ছে, প্রত্ন-নিদর্শন ধ্বংস করছে। মায়ানমার থেকে শ্রীলঙ্কায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধেও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা। গত বছর নভেম্বরেও শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে এমন হিংসা ছড়িয়েছিল। তখনও কট্টর বৌদ্ধদের দিকেই আঙুল ওঠে।‌‌

ট্যাগ: banglanewspaper বৌদ্ধ মুসলিমদের ওপর হামলা