banglanewspaper

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৫ অসহায় পরিবারের সাথে শত্রুতা করে প্রায় ২ একর জমির ধানী ফসল পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে ধানের গাছগুলো কালো ও লালচে দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া (ব্যাপারীটারী) এলাকায়।

জানা যায় ওই এলাকার কৃষক ইসলাম ব্যাপারী, মহির উদ্দিন ব্যাপারী, আনছার আলী ব্যাপারী, আবুল হোসেন ব্যাপারী ও মৃত মনছুর আলী ব্যাপারীর পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছিলো। এক পর্যায়ে পাশ্ববর্তী আকরাম হোসেন চৌধুরী ও মানিক চৌধুরী, ব্যাপারী পক্ষের প্রায় প্রায় ৪ একর জমি জবর দখলের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করে হয়রানীসহ আর্থিক ক্ষতি করে আসছে। চৌধুরী পক্ষ প্রতিটি মামলায় হেরে যাওয়ার কারণে এবং জবর দখলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসামূলক প্রত্যেক ইরি ও বোরো মৌসুমে রাতের আঁধারে ফসলে আগাছা নাশক জাতীয় ঔষধ প্রয়োগ করে পুড়িয়ে ফেলে।

এমনইভাবে ১২মার্চ সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ঔষধ স্প্রে করে প্রায় ২ একর জমির ধানী ফসল পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছে প্রতিপক্ষ।

জমির মালিক কৃষক আনছার আলী ব্যাপারী, রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমরা মঙ্গলবার সকালে ফসল দেখতে গিয়ে দেখি আমাদের ধানের গাছ পুড়ে হলদে ও কালচে হয়ে পাতা শুকিয়ে গেছে। এগুলো পুড়ে দিয়েছে আকরাম চৌধুরী ও মানিক চৌধুরী গ্রুপ। ফসল পুড়ে যাওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হলো। এবার ধান না পেয়ে আমাদের না খেযে থাকতে হবে।

আবুল হোসেন ব্যাপারী ও ইসলাম ব্যাপারী বলেন, ধান পুড়ে গিয়ে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি। মহির উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, আমাদেরকে আর্থিকভাবে হেনস্থা করার জন্য চৌধুরীরা আক্রোশমুলকভাবে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি অফিসার শামসুজ্জামান বলেন, আমার অফিস থেকে আবু সায়েম হাসান ও শাসুদ্দোহা নামে দু’জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে জানিয়েছে প্রাথমিকভাবে ফসলে কোনো রোগ দেখা যায়নি। ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ অতিমাত্রায় প্রয়োগ করায় ধানের গাছ শুকিয়ে কালো ও হলদে রং ধারণ করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসল যাতে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে না যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উপজেরা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্থরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ট্যাগ: Banglanewspaper নাগেশ্বরী ফসল পুড়িয়ে