banglanewspaper

যদিও বিজ্ঞানের সাধনায় তিনি নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন এবং আবিষ্কার করেছিলেন ‘ব্ল্যাক হোলস আর মর্টাল’ তথ্য, তবুও স্টিফেন হকিং পাননি নোবেলের মতো বিরল সম্মান।

কেন পেলেন না তিনি এ পুরস্কার?

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকায় দ্য সায়েন্স অফ লিবার্টির লেখক টিমথি ফেরিস লিখেছিলেন, ‘যদিও থিওরিটিকাল ফিজিক্সে এখন তার ব্ল্যাক হোলস আর মর্টাল থিওরি যথেষ্টই প্রতিষ্ঠিত, তবুও তার এই তত্ত্ব প্রমাণ করার কোনো উপায় ছিল না। যদি কোনোভাবে সেই তত্ত্ব প্রমাণ করা যেত তাহলে হয়তো তিনি নোবেল পেতেন।’

ফেরিস তার লেখায় এও বলেন, এই তত্ত্ব প্রমাণ করা বর্তমানে প্রায় অসম্ভবই। তারার আকারের প্রথম ব্ল্যাক হোল বিস্ফোরণে এখনও কয়েক লাখ কোটি বছর বাকি রয়েছে।

প্রমাণের অভাবে ঠিক একই কারণে ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস ‘হিগস বোসন’ তত্ত্বের জন্যে নোবেল পাননি। দীর্ঘ ৪৯ বছর পরে ইউরোপীয় গবেষণা সংস্থা সিইআরএন এই তত্ত্বকে প্রমাণ করার পরই ২০১৩ সালে ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্টের সঙ্গে যৌথভাবে পিটার হিগস নোবেল পান।

বিশ্ব বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবারের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

স্টিফেন হকিংয়ের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানী কৃষ্ণ গহ্বর এবং আপেক্ষিকতা তত্ত্ব নিয়ে কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

হকিংয়ের তিন সন্তান লুসি, রবার্ট এবং টিম বলেছেন, ‘আমরা দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় বাবা আজ মারা গেছেন। তিনি একজন বড় বিজ্ঞানীই ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, যার কাজ বহু বছর বেঁচে থাকবে।’

১৯৮৮ সালে ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটি বের হওয়ার পর বিখ্যাত হন স্টিফেন হকিং। বইটি এক কোটি কপিরও বেশি বিক্রি হয়।

প্রিন্স অব অস্ট্রিয়ান্স পুরস্কার, জুলিয়াস এডগার লিলিয়েনফেল্ড পুরস্কার, উলফ পুরস্কার, কোপলি পদক, এডিংটন পদক, হিউ পদক, আলবার্ট আইনস্টাইন পদকসহ এক ডজনেরও বেশি ডিগ্রি লাভ করেন হকিং।

১৯৬৩ সালে তিনি মোটর নিউরন ডিজিজ নামে এক রোগে আক্রান্ত হন। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন যে, তিনি হয়তো আর দুই বছর বাঁচবেন। ওই রোগের ফলে স্টিফেন হকিং এখন হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন এবং কম্পিউটারের সাহায্যে কথা বলেন।

হকিংয়ের জীবন নিয়ে ২০১৪ সালে ‘দি থিওরি অব এভরিথিং’ নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়।

ট্যাগ: banglanewspaper হকিং