banglanewspaper

আরিফুল রুবেল, পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় দু’হাজার অবৈধ যানবাহন। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কসহ স্থানীয় সড়কগুলো চলে গেছে মাটিবাহী ট্রলি-ট্র্যাক্টরের দখলে।

আর এসব যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া স্বভাবের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগে রয়েছে, পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতায় চলছে এসব অবৈধ যানবাহন।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ,স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে অবৈধ মাটিবাহী ট্রলি, নসিমন, করিমন, ট্র্যাক্টর বন্ধ করতে বলা হলেও রহস্যজনক কারণে তারা কর্ণপাত করছে না।

জানাগেছে, উপজেলায় মোট ১৪টি ইটভাটার কার্যক্রম চলছে। আর ভাটাগুলোর ইট ও মাটি বহন করতে প্রায় পাঁচশতাধিক অবৈধ ট্রলি-ট্র্যাক্টর রয়েছে। সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ট্রলি-ট্র্যাক্টর গুলো ভোর থেকে গভীররাত পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে দাপিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত ট্র্যক্টার গুলো অতিরিক্ত মাটি বহন করায় রাস্তাগুলো ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে পড়ছে।যে কারণে পথচারী ও স্থানীয় দোকানদারা চরম বিপাকের মধ্যে রয়েছে।

শুধু ট্রলি-ট্র্যাক্টর নয়, পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাসিক চুক্তির মাধ্যমে নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন প্রকার প্রায় দেড় হাজার অবৈধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে।

পুঠিয়া সদর এলাকার ব্যবসায়ী মাহাবুব ও মুনির হোসেন বলেন, স্থানীয় একজন প্রভাবশালী পুঠিয়া পৌর সদরে একই স্থানে দু’টি ইটভাটা চালাচ্ছে। ওই ভাটা দু’টিতে প্রায় ২০/২৫টি মাটিবাহী অবৈধ ট্র্যাক্টর দেদারছে চলছে।এগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি বোঝাই করে যাতায়াত করছে। আর অতিরিক্ত মাটিগুলো সড়কে পড়ছে। ওই ধুলায় দোকানপাটসহ ক্রেতারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বিষয়গুলো পুলিশ-প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

পথচারী আল-আবির বলেন, অবৈধ যানবাহন ও ধুলার কারণে রাস্তায় বের হতে পারি না। সড়কে কোনো গাড়ি গেলেই ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়।  কোথাও গেলে চশমা মুখোশ পড়ে যেতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইটভাটার মালিক বলেন, অবৈধ ট্রলি-ট্যাক্টার ও ইটভাটা চালাতে সমিতির মাধ্যমে পুলিশ-প্রশাসনসহ কয়েকটি সংস্থায় আমাদের মাসোয়ারা দিতে হয়। প্রতিটি ভাটা মালিক মাসে এক লাখ টাকা করে দেন। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অভিযান রোধে আরো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। ভাটা মালিক কোনো সমস্যার কারণে টাকা দিতে দেরি করলেই প্রশাসনিক অভিযান শুরু হয়। তারা ভাটার ট্রলি-ট্র্যক্টার আটক করে রাখেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দীন মন্ডলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে পবা হাইওয়ে ইনচার্জ (শিবপুর ফাঁড়ি) উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধ ট্র্যাক্টর ও যানবাহন ধরতে আমরা মাঝে মধ্যে অভিযান চালাচ্ছি। তবে আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কোথাও কোথাও অবৈধ যানবাহনগুলো চলতে পারে। তবে আমরা কোনো মাসোয়ারা নেই না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল মাহমুদ মাসোয়ারা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কেউ যদি ইটভাটার অর্থ নেয়ার বিষয়ে জড়িত থাকে এবং উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর অচিরেই মাটিবাহী ট্র্যাক্টর ও অবৈধ যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলানো হবে।

ট্যাগ: Banglanewspaper পুঠিয়া অবৈধ যান নীরব প্রশাসন