banglanewspaper

বাংলাদেশ’র রাজনৈতিক আমলাতান্ত্রিক জঠিলতা থেকে পুলিশকে ছাড় দিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের আইনশৃংখলা রক্ষায় তাদেরকে সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার সহযোগীতায় দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।

দেশের জনস্বার্থে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করতে হবে অনিয়ম দুর্ণীতির বিরুদ্ধে। সার্বিক সহযোগীতায় রাষ্ট্রের কল্যাণে সবসময় তাদেরকে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করা আপনার আমার সকলেরই দায়িত্ব ও কর্ত্যব্য। ‘আমরা যখন পুলিশকে বলে থাকি ‘পুলিশ ঘুষখোর’ পুলিশ চাঁদাবাজ, পুলিশ রাজনৈতিক দলের আমলা ও কান্ডারী।’

এ কথার ভাষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে লোকমুখেও শুনতে পাই। অনেকে আবার বলেন, দেশে আইন আছে কিন্তু যথাযথ প্রয়োগ নেই! হ্যা কথাটি একেবারে উড়িয়েও দেওয়ার নয়। কারণ এ স্বাধীন রাষ্ট্রে যে বা যারা যখনই ক্ষমতার আসনে বসেন তখনই শুরু হয় পুলিশ প্রশাসন নিয়ে তোলপাড় বক্তব্য। আমলাতান্ত্রিক জঠিলতা চারদিকে তখন ঘিরে বসে পুলিশ নামক বাহিনীকে।

তাদেরকে হাত-পায়ে বেরি বেধে দেয় রাজনীতি নামের অধ্যায়। নেতা-কর্তার গোলাম হয়ে শত অন্যায় সহ্য করতে হয় সেই পুলিশকে। এ থেকে তাদের রক্ষা করা এই বাংলাদেশে বড়ই কঠিন।

যদি আমরা বাংলাদেশের ভেতরে থানাগুলোর বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা পুলিশের হাল হকিকত ফিরে দেখি তাহলে তো আর কথাই নেই তাদের অনিয়ম-দুর্ণীতি যেন পিছুই ছাড়ছেনা।

‘থানায় গেলে পুলিশের মুখ থেকে শুনা যায় রাজনীতি নেতা-কর্তাদের কত ধরনের তদবির বাণিজ্য। ব্যাচ বেজে গেল পুলিশের বারোটা। অভিযোগ যতও সত্য হোক আর মিথ্যা হোক তদবির বাণিজ্যে বিনাশ,হয়রানির পেরেসানিতে বাদি-বিবাদি উভয়!’

শুরু হয় স্বার্থ রক্ষায় ঘুষ বাণিজ্যের জুয়া। জুয়ার টেলায় সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে অনেক নথিপত্র। কেউতো নেতাদের শেল্টারে পুলিশ তাদেরকে নিরাপদ করছে, কেউ আবার ঘুষ বাণিজ্যে ঘটনার রহস্য ধামাচাপা দিচ্ছে। এটা’ই নাকি জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী কাজ করছে ও তারা তাদের দায় ছাড়ছে।

এদিকে বেশ কয়েকটি থানায় গেলে একটু সময় বসলে দেখা যাবে, হরেক রকম নেতা-কর্তার হিরীক। থানা পুলিশের সাথে তাদের কত গভীর সখ্যতা। ক্ষমতার বড়াই শুধু একটি রাজনীতির বড়াই! তাদের মধ্যেও শুনা যায়-উপজেলা পর্যায়ের অফিসার ইনচার্জদেরকে নাকি ওই এলাকার এমপি নিজেদের স্বার্থে বাচাই করে ‘ওসি’ নিয়ে আসেন সেই থানাগুলোতে। শুরু হয় থানা এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি ওই এমপিপন্থি নেতা-কর্তাদের দাপুট। অনেক পুলিশ সদস্যরাও সেই কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ওইসব এলাকায় ঘুষ বাণিজ্যের হিরীক’র পাহাড় গড়ছেন।

আবার অনেক কর্তারা রাজনীতির গেরাকলে ফেলে কৌশলে পুলিশকে ব্যবহার করছেন মামলা দাখিলের হাতিয়ার হিসেবে ও ব্যবহার করছেন কিছু কিছু সংবাদকর্মীদের পিটুনীর ক্ষেত্রেও। এমনকি আম জনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের পেছনেও সেই পুলিশকে লেলীয়ে দিচ্ছেন। যা প্রতিদিন এমন ঘটনার সংবাদ এদেশের কোন না কোন স্থানীয়-জাতীয় দৈনিক তথা অনলাইন নিউজপোর্টাল পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও থামছেনা দুর্ণীতি।

কথার প্রসঙ্গে বলতে হচ্ছে এবার-বাস্তবে কি’ পুলিশ ঘুষখোর! কিন্তু না আপনে আমি ঠিক নয়। কারণ আমরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পুলিশকে ঘুষ বাণিজ্যে মাতিয়ে রাখি। বিভিন্ন নেতা-কর্তার হাওলা নেই। পুলিশের সরকারী কাজে হস্তক্ষেপ করি, ক্ষমতার চাপে তাদেরকে অন্যায় কাজে লিপ্ত করতে আমরা বাধ্য করি। এক কথায় শাসন-শোষন সব কিছুর মুলে রয়েছেন রাজনীতি।

তবে সব পুলিশ কর্মকর্তারা যে, রাজনীতির শিকলে আবদ্ধ রয়েছেন তা নয় বা সবাই যে ঘুষখোর তাও নয় ‘যারা ভাল আছেন তাদের পক্ষে যে সাফাই দেয়া বড়ই কঠিন।’ কারন তাদের অন্য সহযোগীরা এখন দুর্ণীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত। রাজনীতির দাড়ি-পাল্লায় তাদের মাপখাটি বুঝে ওঠা বড় দায়। তাই এ অভিশাপ থেকে পুলিশ সমাজকে রক্ষা করতে হলে আমলাতান্ত্রিক জঠিলতা দূর করতে হবে।

স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করার সূযোগ করে দিতে হবে। নেতা-নেতৃত্বের গোলামী ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এজন্য সকল শ্রেণী পেশার লোকদেরও পুলিশের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে, প্রতিবাদি হয়ে উঠতে হবে আমাদের সবাইকে।

পুলিশকে সার্বিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ করতে হবে ‘হ্যা আমরা এদেশের জনগণ সব করতে পারি’। তবে সবচেয়ে বেশি পুলিশি দুর্ণীতি বন্ধ করতে হলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং নিজেদের দাপুটের ক্ষমতাকে সত্যেকার অর্থে আইনানুগ ভাবে মোকাবেলা করতে হবে যাতে (পুলিশের নিকট) সেখানে কোন প্রভাব কাটানো না যায়। এতে সহজেই পুলিশি ঘুষ বাণিজ্যনীতি ও দেশের দুর্ণীতিনীতি বন্ধ করা সম্ভব।

লেখক

অরুন সরকার

লেখক ও সাংবাদিক

মোবাইল নং-(০১৭১৩৩৯২৪৭৬)

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper অভিশাপ পুলিশ সমাজ