banglanewspaper

‘কোটা প্রথা বিরোধী আন্দোলন’ আর ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ এই দু’য়ের ভিতর পার্থক্য কি স্পষ্ট নয়? যাদের অবস্থান সরাসরি ‘কোটা বিরোধী’র কাতারে, তারা কিন্তু সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। কেননা, সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদে সমাজের অনগ্রসর বা পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য (চাকরির ক্ষেত্রে) কোটা প্রথা প্রবর্তনের কথা উল্লেখ আছে। 

আর যারা কোটা সংস্কারের কথা বলছেন, তাদের ভিতর অনেকেই ইনিয়ে বিনিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের মনোভাব পোষণ করছেন! এটি খুবই দুঃখজনক।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা কি কার্যকর ছিল? ২১ বছর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার সবদিক থেকে বঞ্চিত ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের বা তাদের বংশধরদের এই সুযোগটুকু দিতে হবে। অনগ্রসর জেলা বা অগ্রসর জেলার পার্থক্য যেখানে এখনও স্পষ্ট; সেখানে জেলা কোটা রহিতও বাঞ্ছনীয় নয়। ঠিক তেমনিভাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। সরকার স্পষ্ট করেই বলেছে, ‘কোটা পূরণ না হলে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে মেধা তালিকা থেকে। এর পরেও আপত্তি কিসের?

লিখিত পরীক্ষায় যিনি পাশ করেন, আপনি তাকে মেধাবী বলবেন না? তারা কি অমেধাবী? প্রিলিমিনারী বা লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত কি কোটা প্রথা আরোপ করা হয়? লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত কিন্তু সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে, নাকি? তাহলে যারা প্রিলি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন- তারা কি মেধাবী নয়?
কোটা- সংস্কারের দাবী আপনি করতেই পারেন। এ দাবি আমি অযৌক্তিক মনে করছি না। সময় নির্ধারণ করে দিবে কখন কোটার সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নামে “ঘোলা পানিতে মাছ শিকার” করতে আসছেন কিনা- ভেবে দেখবেন। কেননা এই আন্দোলনের ইতিবাচক লোকের পাশাপাশি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের উপস্থিতিও দৃশ্যমান। আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না যে, এখানে সবাই প্রগতিশীল ঘরানার।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিতে চায়- তারা কোনোভাবে এখন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। নির্বাচনের বছরে ‘কোটা বিরোধী আন্দোলন’ বা ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’কে ছাতা হিসেবে ব্যবহার করছে না তো সেই প্রতিক্রিয়াশীলগোষ্ঠী?
ভেবে দেখবেন।

লেখক: সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। (ফেসবুক থেকে নেয়া)

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper জয়দেব নন্দী