banglanewspaper

উত্তেজনার সব রং-রূপ ধরা পড়লো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ম্যাচে। কী ছিল না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চের সব উপাদান হাজির ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। তবে শেষের উত্তেজনা ছাড়িয়ে গেছে সবকিছুকে। বিতর্কিত আম্পায়ারিং, নুরুল হাসান-কুশল মেন্ডিসের কথার লড়াই, সাকিবের মাঠ ছেড়ে আসার ইঙ্গিত- সব বিতর্কের জবাব মিললো মাহমুদউল্লাহর এক ছক্কায়।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান। প্রথম দুই বলে ডট ও মোস্তাফিজের আউটে ৪ বলে দরকার পড়ে ১২ রান। জমে যাওয়া উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালে ইসুরু উদানার পরপর দুটি বাউন্স। মোস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে বল যাওয়ার পরও কেন ‘নো’ বল ডাকা হলো না, তা নিয়ে বেঁধে যায় দ্বন্দ্ব। অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে পড়েছিল যে, সাকিব খেলাই বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন!

ক্রিজে আশার শেষ প্রদীপ হয়ে জ্বলে থাকা মাহমুদউল্লাহ অবশ্য অধিনায়কের ডাকে সাড়া দেননি। মনে বিশ্বাস থাকলে নাকি সব বাধা ডিঙানো যায়- কথাটা কতটা সত্যি, তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ দিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ২ বলে যখন দরকার ৬ রান, ওই মুহূর্তে বাঘের গর্জন তুলে উদানার বল নিয়ে ফেললেন গ্যালারিতে। ব্যস, ওই এক শটেই সব জবাব দেওয়া হয়ে গেল বাংলাদেশের।

ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ৭০তম জাতীয় দিবসের টুর্নামেন্ট নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠে গেলো বাংলাদেশ। ১৮ মার্চ এই প্রেমাদাসাতেই রোহিত শর্মাদের বিপক্ষে ট্রফির লড়াইয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা।

তামিম ইকবাল যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, যেন অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে- এমনটাই ছিল পরিস্থিতি। কিন্তু ১২ ওভার পরেই যেন ম্যাচটা ঝুলে যায় শ্রীলঙ্কার দিকে। ওই সময়ই মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার ছুঁয়েছেন মুশফিক। অপর প্রান্তে এই মাইল ফলকে সবার আগে পৌঁছা তামিম। ১২ ওভার শেষে দলের স্কোর ২ উইকেটে ৯৫। ইনিংসের ওই অবস্থায় শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৬৮ রান। ২৭ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ তো জয়ের দিকেই ছুটছিল।

কিন্তু এমন নিরঙ্কুশ অবস্থায় থেকেও বাংলাদেশ যেন হুড়মুড় করেই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিভাবে বেরিয়ে যেতে হয়, তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করছিল ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ১৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ৯৭ রান থেকে হঠাৎ করেই ৫ উইকেটে ১০৯ বাংলাদেশ।

মূলতঃ ১৪তম ওভারে ১০৫ রানে ব্যক্তিগত ৫০ রানে (৪২ বলে ৪ বাউন্ডারি ২ ছক্কায়) তামিম আউট হয়ে যাওয়ার পরই শঙ্কাটা জেগে ওঠে। ১০৯ রানে সৌম্য সরকার, ১৩৭ রানে সাকিব আল হাসান এবং ১৪৮ রানে মিরাজ রানআউট হয়ে গেলে বাংলাদেশের জয় একেবারে যেন তীরে এসে তরি ডোবার মত হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু অপর প্রান্তে তো পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রয়েছেন। যদিও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর ভুমিকার কথাও বার বার উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১৮ বলে ৪৩ রান করা মাহমুদউল্লাহ শেষ ওভারে মাত্র ৩ বলেই নিলেন ১২ রান এবং ছক্কা মেরেই তিনি বাংলাদেশকে পৌঁছে দিলেন গৌরবময় এক ফাইনালে।

ট্যাগ: banglanewspaper মাহমুদউল্লাহ