banglanewspaper

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম কে শারিরীক লাঞ্চনা ও আঘাতের প্রতিবাদে একই বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলামের পদত্যাগে মানববন্ধন, মৌন অবস্থান ও ভিসি বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে বিভাগের বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা।

সন্তানের অসুস্থতার কারণে আগের দিন বিভাগের একাডেমিক মিটিংয়ে আসতে না পারায় পরের দিন ১৩ই মার্চ ২০১৮ ইং  মঙ্গলবার ক্লাস নিতে এলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেজবাহ-উল ইসলাম একাডেমিক মিটিংয়ে কেন আসতে পারেননি বলে তাঁর কৈফিয়ত চান। এ সময় এ শিক্ষককে গালিগালাজ এবং তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। 

এদিকে একই দিন বিকেলে বিভাগের সন্ধ্যাকালীন প্রোগ্রামে ক্লাস নিতে এলে বিভাগের কর্মচারী দিয়ে আনোয়ারুলকে ডেকে আনেন ড. মেজবাহ-উল ইসলাম। পরে চেয়ারম্যানের রুমে গেলে চেয়ারম্যান তাঁকে অনেক গালিগালাজ করেন এবং কেন মিটিংয়ে আসেনি তাঁর কারণ জানিয়ে দরখাস্ত দিতে বলেন।আনোয়ারুল দরখাস্ত না দিয়ে ছুটির ফরম জমা দেবেন জানালে তখন অন্য সহকর্মীদের সামনে চেয়ারম্যান তাঁর (আনোয়ারুল) শার্টের কলার ধরে তাঁকে ধাক্কা দেন। এ সময় সহকর্মীরা চেয়ারম্যানকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁরা চলে গেলে চেয়ারম্যান মেজবাহ ফের আনোয়ারুলের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে লাথি ও ঘুষি দেন। 

গত বুধবার ঘটনার স্বীকার ড. আনোয়ারুল ইসলাম একাডেমিক কমিটি এবং প্রোক্টর বরাবর বিচার চেয়ে আবেদন করেন। এদিকে বিভাগটির জৈষ্ঠ্য অধ্যাপক ড. এস এম মান্নানের নেতৃত্বে বিভাগের শিক্ষকেরা ভিসি বরাবর ঘটনার উপযুক্ত বিচার চেয়ে আবেদন করেন এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরিক্ষা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে ঘোষণা দেন।

অপরদিকে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আজ সকাল ৮ টা থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন এ ঘটনার বিচার দাবিতে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বিভাগে শিক্ষার্থীদের মৌন অবস্থান,মানববন্ধন এবং সবশেষে সকাল ১০.৩০ মিনিটে ভিসি বরাবর স্বারকলিপি প্রদান।
উল্লেখ্য এই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অনেকের সাথে শারিরীক ও মানসিক লাঞ্চনার অভিযোগ ছিল।

উল্লেখ্য প্রাচের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মেজবাহ-উল-ইসলাম। তার নামটিই এ বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। 

কারণে-অকারণে শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা তার দৈনন্দিন কাজ। সামান্য একটু ভুলে পরিবার তুলে গালি দেওয়া তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিভাগের প্রভাষক, সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক, এমনকি অধ্যাপকেরাও তার এই আচরনের শিকার। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেজবাহ-উল ইসলামের বিরুদ্ধে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও আঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অধ্যাপক মেজবাহ-উল ইসলামের দাবি, তাঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।

বুধবার সন্ধ্যায় একাডেমিক কমিটি ও প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিভাগটির চেয়ারম্যান তাঁর কক্ষে তাঁকে (আনোয়ারুল ইসলাম) মারধর করেন।

অভিযোগে আনোয়ারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সন্তানের অসুস্থতার কারণে সোমবার বিভাগের একাডেমিক মিটিংয়ে আসতে না পারায় পরের দিন মঙ্গলবার ক্লাস নিতে এলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেজবাহ-উল ইসলাম একাডেমিক মিটিংয়ে কেন আসতে পারেননি বলে তাঁর কৈফিয়ত চান। 

এ সময় এ শিক্ষককে গালিগালাজ এবং তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এদিকে একই দিন বিকেলে বিভাগের সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামে ক্লাস নিতে এলে বিভাগের কর্মচারী দিয়ে আনোয়ারুলকে ডেকে আনেন ড. মেজবাহ-উল ইসলাম। পরে চেয়ারম্যানের রুমে গেলে চেয়ারম্যান তাঁকে অনেক গালিগালাজ করেন এবং কেন মিটিংয়ে আসেনি তাঁর কারণ জানিয়ে দরখাস্ত দিতে বলেন। 

আনোয়ারুল দরখাস্ত না দিয়ে ছুটির ফরম জমা দেবেন জানালে তখন অন্য সহকর্মীদের সামনে চেয়ারম্যান তাঁর (আনোয়ারুল) শার্টের কলার ধরে তাঁকে ধাক্কা দেন। এ সময় সহকর্মীরা চেয়ারম্যানকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁরা চলে গেলে চেয়ারম্যান মেজবাহ ফের আনোয়ারুলের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে লাথি ও ঘুষি দেন। এরপর ভুক্তভোগী এ শিক্ষক বাসায় চলে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের একাধিক কর্মচারী ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগে অন্য শিক্ষকের সঙ্গেও ঘটিয়েছেন মেজবাহ।

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এ নিয়ে ডিনসহ আমাদের একাডেমিক কমিটির মিটিং হয়েছে। বিষয়টি ঠিক হয়ে গেছে।"

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাস্টার্স এর একজন শিক্ষার্থী জানান," শিক্ষক জাতির বিবেক ।তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।আমাকেও কয়েকবার শ্রেণীকক্ষে পরিবার তুলে গালি দিয়েছেন। যদিও কেন তিনি এটা করেছেন তা আজও জানতে পারিনি।"

৪র্থ বর্ষের একজন ছাত্র জানান, "যেখানে বিশ্ব প্রতিনিয়ত উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে সেখানে আজও এ বিভাগের উন্নয়নে বাধা হয়ে আছেন কয়েকজন শিক্ষক।তার মধ্যে তিনি অন্যতম। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্র বাড়াতে যখন অন্যান্য শিক্ষকেরা পাঠ্যসূচিতে এবং অনুষদের পরিবর্তন করতে আগ্রহী, তখন তারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য চান না সেটা হোক। "ব্যক্তিগত লাভের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি (ছাত্রটি) সেটা এড়িয়ে যান। 

সদ্য সাবেক একজন শিক্ষার্থী জানান, "উনি(ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম) আমাকে হঠাৎ ই একদিন গালাগালি দিতে থাকেন। আমি বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি সনদপত্র আটকে দেবার ভয় দেখান।"


 

ট্যাগ: Banglanewspaper ঢাবি তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা চেয়ারম্যান শিক্ষার্থী মানববন্ধন