banglanewspaper

মামলা প্রত্যাহার ও কোটা সংস্কারের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে ২৫ মার্চ তাঁরা শিক্ষা সনদ গলায় ঝুলিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেন। পরে মিছিলটি শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত মোড় হয়ে ফের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা কোটাবিরোধী স্লোগান দেন এবং শাহবাগ থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। সেখানে বক্তব্য দেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। ২৫ মার্চ তাঁরা গলায়, কাঁধে বা হাতে সব শিক্ষা সনদ নিয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে শহীদ মিনারে যাওয়ার রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করবেন। আন্দোলনকারীরা জানান, অহিংস প্রতিবাদ হবে। এভাবেই তাঁরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ চান।

মিছিলে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়। এছাড়া সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বেশ কয়েকচন শিক্ষার্থী। তারা বলেন, সেদিনের (১৪ মার্চ) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বিনা উস্কানিতে কাাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করেছে।

নিজেদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, এ আন্দোলন ন্যায্য দাবির পক্ষে আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুও সবসময় ন্যায্য দাবির পক্ষে কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত কোটা সংস্কারে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চাকরি প্রার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা, কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য-পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার বন্ধ করা, কোটাভিত্তিক বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া এবং চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চাকরি প্রার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো-কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে। কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য-পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না। কোটার কোনও বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক ও বয়সসীমা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ আন্দোলনকারীরা জনপ্রশাসনমন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের সামনে যায়। পরে সেখানে পুলিশের বাধা পেয়ে তারা হাইকোর্টের সামনের ‘শিক্ষা অধিকার চত্বরে’ অবস্থান নেয় এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। এর আধঘণ্টা পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে। এরপর আন্দোলনকারী অজ্ঞাত ৭০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মো. বদরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

ট্যাগ: banglanewspaper কোটা মামলা