banglanewspaper

এম. রহমান, ঝিনাইদহ: সেই দিন আর নেই। এখন গ্রামাঞ্চলে আর ঢেঁকির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। শোনা যায় না মিষ্টি মধুর ঢেঁকির সেই ঢেঁকুর ঢেঁকুর শব্দ। অথচ এক সময় গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল ঢেঁকি। 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। শবেবরাত, ঈদ, পূজাপাবনসহ নতুন ধান ঘরে ওঠার আগেই গ্রামের বধূরা ঢেঁকি মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। ঘরে ঘরে চিঁড়া কুটা, চাল ও চালের গুঁড়া কুটার প্রস্তুতি চলত। বাড়িতে আত্মীয় এলে বা শীত মৌসুমে পিঠা তৈরির করার জন্য ধুম পড়ে যেত। গ্রামের বধূরা ভিড় জমাতো ঢেঁকি ঘরে। এমন এক সময় ছিল যখন ঢেঁকি গৃহস্থলীর নিজ প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম প্রধান উপকরণ। গৃহিণীরা ঢেঁকিতে ধান ভেঙে চাল তৈরি করত। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পালা করে চলত তাদের ধান ও চালের গুঁড়া তৈরির কাজ।

গ্রামের গরিব মেয়েরা গৃহস্থের বাড়িতে ধান ছাঁটাই করে বা গুঁড়া কুটে দিত। বিনিময়ে পারিশ্রমিক বাবদ পেত চাল। এখন আধুনিকতার যান্ত্রিক যুগে ঢেঁকির সঙ্গে হারিয়ে গেছে গ্রামের বধূদের মনের সেই আবেগ আনন্দ। অধিকাংশ গ্রামে এখন আর ঢেঁকি নেই। ২/১টি পরিবার শৌখিনতার বশে স্ব-যত্নে এখনো ঢেঁকি রেখে দিয়েছে।

 মূলত সত্তর দশকের পর ইঞ্জিন চালিত ধান ছাঁটাই কল আমদানির পর থেকে গ্রামাঞ্চল থেকে ঢেঁকি বিলীন হওয়া শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে গ্রামের মানুষ ভুলে গেছে ঢেঁকি ছাঁটাই চালের স্বাদ। মেয়েরাও ঢেঁকির সঙ্গেই হারিয়ে ফেলেছে ঢেঁকুর ঢেঁকুর শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গানের সুর। যান্ত্রিক সভ্যতা গ্রাস করেছে কাঠের ঢেঁকি। 

ট্যাগ: Banglanewspaper ঝিনাইদহ বিলুপ্তি গ্রাম-বাংলা ঢেঁকি শিল্প