banglanewspaper

আইএসও সনদপ্রাপ্ত ইউনাইটেড হাসপাতাল। তবে ভেতরে ভেজালে ঠাসাটাসি। যেখানেই হাত দেওয়া হয় সেখানেই ভেজাল। ল্যাব কক্ষের কোনও জিনিসপত্রের ঠিক নেই। কি কোথায় পড়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই। যে ওষুধ নরমালে থাকার কথা সেই ওষুধ জমে আছে, কেউ দেখার নেই। অথচ কক্ষগুলোতে কর্মকর্তা কর্মচারি গিজগিজ করছে।

চার ঘণ্টার অভিযান শেষে নকল ওষুধ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ রিঅ্যাজেন্ট রাখার দায়ে রাজধানীর আইএসও সনদপ্রাপ্ত ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। সেই সাথে হাসপাতালটিকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। কিছু কিছু ওষুধ আছে যেগুলোর মেয়াদ আগামী ১ এপ্রিল শেষ হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ল্যাব ও ফার্মেসীতে রাখা মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ না সরালে ফের অভিযান চালানো হবে।

অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার বলেন, রোগ নির্ণয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত) ব্যবহার, অবৈধ ও অনুমোদনহীন ওষুধ কেনা-বেচার ও ব্যবহারের দায়ে ইউনাইটেড হাসপাতালকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার সঙ্গে হাসপাতালটিকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এই ১৫ দিনের মধ্যে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সুচার ও কেমিক্যালসহ যাবতীয় উপকরণ সরিয়ে না ফেলে তাহলে হাসপাতালের আইএসও (আন্তর্জাতিক মান সংস্থা) সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিলো রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং এ্যাপোলো হাসপাতাল এসব মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ ব্যবহার এবং অবৈধ ওষুধ বিক্রির কাজে জড়িত ছিল। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আমরা এ্যাপোলো হাসপাতালকে জরিমানা করেছিলাম। আজ এদের করা হলো। আরো কিছু হাসপাতালের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করব।’

অভিযানে উপস্থিত থাকা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ল্যাব থেকে জব্দ করা কেমিক্যালের মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের একটি ব্যবহৃত জার ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মেয়াদ শেষ হয়।  যেটা প্যাথলজিক্যাল টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে। জব্দ করা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট। নিয়মানুযায়ী এসব জারে এটি খোলার দিন তারিখ উল্লেখ থাকার কথা। কিন্তু সেটাও মানা হয়নি।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও ওষুধ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলার প্যাথলজি ল্যাব ও হেমাটোলজি ল্যাবের অবস্থান। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার কাছ থেকে ওষুধ আমদানি ও ক্রয় করে, রিজেন্টের মেয়াদ আছে কি-না ইত্যাদি বিষয়ও যাচাই-বাছাই করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ল্যাবে রোগ নির্ণয়ের মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (রোগ নির্ণয়ের জন্য রাসায়নিক উপাদান) ব্যবহার এবং ফার্মেসিতে প্রশাসনের অনুমোদনহীন ওষুধ রাখায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল ও ফার্মেসিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ট্যাগ: banglanewspaper ইউনাইটেড হাসপাতাল জরিমানা