banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে বিস্তীর্ণ বালুময় মরুভূমি অঞ্চলের উট পাখির ডিম ফুটে তিনটি নতুন বাচ্চার জন্ম হয়েছে।

দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে উট পাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটার ঘটনা ঘটলো এ পার্কে। ৮টি ডিম থেকে গত সোমবার একটি ও বুধবার দুটি ছানা ডিম থেকে বের হয়েছে। তিনটি ছানাই এখন সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

পার্কের বণ্যপ্রানী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আড়াই বছর বয়সী ৬টি উটপাখি আনা হয়। এর মধ্যে ২টি পুরুষ ও ৪টি স্ত্রী পাখি ছিল। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের ১৬তারিখে দেশে প্রথমবারের মতো উট পাখি থেকে একটি ছানা পাওয়ায় নতুন তিনটি ছানাসহ বর্তমানে পার্কে উট পাখির সংখ্যা দাঁড়ালো ১০টিতে।

তিনি আরো জানান, মা উট পাখি মোট ৮টি ডিম নিয়ে বসে তাতে তা দেয়। প্রায় ৪০দিন ওই ৮টি ডিমে তা দেয়ার পর, ৮টির মধ্য থেকে তিনটি ডিম ফুঁটে বাচ্চা বের আসলেও বাকী গুলো থেকে এখনো বাচ্চা পাওয়া যায়নি। আশা করা যাচ্ছে বাকী ডিমগুলো থেকেও বাচ্চা পাওয়া যাবে। পার্কের দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নতুন বাচ্চা গুলো মা উট পাখিকে বেষ্টনীর এক পাশে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। বাচ্চা ও মা উটপাখিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আকারে সবচেয়ে বড় উট পাখি আবদ্ধ  অবস্থায় ৬০ বছর বেঁচে থাকে। আর প্রকৃতিতে ৪০ থেকে ৪৫ বছর বাঁচে। এদের ওজন হয় প্রায় ৬৫ কেজি থেকে ১৪৫ কেজি পর্যন্ত। এরা ঘন্টায় ৭০ কিলো মিটার গতিতে দৌঁড়াতে পারে।

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, সাফারি পার্কে মরুর দেশের উট পাখির ডিম ফুটে বাচ্চা জন্মের ঘটনায় আশা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম বাচ্চাটি দেশীয় পরিবেশে সবদিক থেকে অন্যান্য উটপাখির চেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে বেড়ে উঠছে। ভবিষ্যতে উট পাখি থেকে আরো বাচ্চা আশা করা যাচ্ছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper শ্রীপুর সাফারী পার্ক উট পাখি নতুন ছানা