banglanewspaper

এম. রহমান, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের কমলাপুর গ্রামের গভীর জলাশয় তেঁতুল বিলে প্রতি বছরের ন্যায় এবার সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আকাশ পথ পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি উড়ে এসে নিরাপদ আশ্রয় স্থল ভেবে বসছে।

এ গুলোর মধ্যে রয়েছে পানকৈাড়ি, হাসপাখি, শামুকভাঙা, রং বেরংয়ের বড় বড় বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। প্রায় শতএকরের অনাবাদি এই বিলে সারা বছর কমপক্ষে ৬/৭ ফুট পানি থাকে।

পট, কোচুড়ি, বন জঙ্গল, আবর্জনা ভরা এই তেতুঁল বিলে রয়েছে দেশি প্রজাতির হরেক রকম পাখি। প্রতি বছর ফেব্রয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিদেশী অতিথি পাখিসহ দেশী জাতের হাজার হাজার পাখির ঝাঁক খাদ্যের সন্ধানে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কমলাপুর-রামনগর অঞ্চলের এই তেতুঁল বিলেই বসে তারা। পড়ন্ত বিকেলে যখন হাজার হাজার অতিথি পাখি আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় প্রকৃতির এই সৌদর্য্য দেখতে এলাকাবাসী বাড়ির ছাদে, উঠানে অথবা ফাঁকা মাঠে দাড়িয়ে সেই দৃশ্য অবলোকন করে থাকে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার চাঁচড়া গ্রামের হামিদুল ইসলাম সরকারী আইন তোয়াক্কা না করে লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে তেঁতুল বিলে গিয়ে পরপর তিন দফায় প্রায় ৫০/৬০ টি পানকৌড়ি, হাঁসপাখি, শামুকভাঙা ও বড়বড় বকপাখি শিকার করে।

ঘটনাটি কমলাপুর ও সিংদহ গ্রামবাসী জানতে পেরে পাখি নিধনকারী হামিদুলকে বন্দুকের গুলিতে অতিথি পাখি শিকার বন্দ করার জন্য কড়া প্রতিবাদ করলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না।

কমলাপুর গ্রামের আঃ রাজ্জাক, ছবেদ আলী, আলমগীর বলেন, চাঁচড়া গ্রামের হামিদুল একজন চিহ্নিত পাখি শিকারী। তাকে তেতুঁল বিলে এসে পাখি মারতে নিষেধ করলে সে ক্ষুদ্ধ হয়ে বলছে সরকার আমার বন্দুকের লাইসেন্স দিয়েছে ঘরে রাখার জন্য নহে। এই বন্দুক পাখি মারার কাজেই ব্যবহার হবে।

এলাকাবাসীর দাবী কালীগঞ্জ থানা থেকে মাত্র ৪ কিলো মিটার দূরে গান্না বাজার সংলগ্ন কমলাপুরের তেতুঁল বিলে অতিথি পাখি শিকার বন্দে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ সহ পাখি শিকারী হামিদুলকে আইনের আওতায় এনে পাখি নিধনের অপরাধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছে। অন্যথায় এভাবে বন্দুক দিয়ে পাখি নিধন চলতে থাকলে তেতুঁল বিলের নিরাপদ আশ্রয় থেকে অতিথি পাখির দলকে আর দেখা যাবে না।

বন বিভাগ সূত্র জানাযায়, ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণি রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার